সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষকদের জন্য বহু প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে। এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সরকারের উচ্চপর্যায়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নতুন বেতন কাঠামো চালু হলে একদিকে যেমন লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুবিধা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বিশেষ করে ১৩তম গ্রেডের শিক্ষকদের বর্তমান মূল বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে প্রায় দ্বিগুণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সরকারের নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের জন্যও বড় ধরনের সুবিধার প্রস্তাব রয়েছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি টিফিন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল নিয়ে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। নতুন কাঠামোতে তারা কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে-কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদ্যমান সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় থাকা সব কর্মকর্তা-কর্মচারীই নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন। সে ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাও ধাপে ধাপে সমন্বয় করার বিষয়টি বিবেচনায় থাকতে পারে।
চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশের আর্থিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

