ধীরে ধীরে ঘনিয়ে আসছে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময়। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী মহল—সবখানেই চলছে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ।
এবারের বাজেটের আকার বড় হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এর কাঠামো ও নীতিগত দিকগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে করহার বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে নতুন সমন্বয় আসতে পারে। এ কারণে বেসরকারি খাত, নির্দিষ্ট আয়ের চাকরিজীবী এবং স্বল্প আয়ের কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের অর্থনীতির আকার প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এই লক্ষ্য অর্জনে অর্থনীতিকে দ্বিগুণ করতে হবে। এজন্য সমন্বিত বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হারের হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ৯ শতাংশ হারে নামমাত্র মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে।
অন্যদিকে প্রকৃত প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় বাংলাদেশকে ধারাবাহিকভাবে প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি মধ্যম পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্থিতিশীল মুদ্রা বিনিময় হার বজায় রাখাও জরুরি। তবে এ লক্ষ্যে কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অর্থনৈতিক চাপের আরেকটি দিক হলো রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি। স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও আয়কর আদায়ে ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
উদ্বেগের বড় জায়গা হলো সংশোধিত বাজেট বাস্তবায়নের সময় কোন খাতে কত ব্যয় কমানো হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি। ব্যয় সমন্বয়ের তথ্য সীমিতভাবে প্রকাশ পাওয়ায় জবাবদিহিতা দুর্বল হয় এবং এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে সংশোধিত বাজেট একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও কোন খাতে বরাদ্দ কমানো হলো বা কোন খাত অগ্রাধিকার পেল—সে তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছায় না। এ কারণে সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা আনার তাগিদ উঠছে। বিশেষ করে কোন খাতে ব্যয় কমানো হচ্ছে, তা পরিষ্কারভাবে জানালে জবাবদিহিতা ও জনআস্থা দুটোই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। কম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যয় যৌক্তিকভাবে কমিয়ে আনা এবং প্রকল্প পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করা গেলে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। সাশ্রয় হওয়া অর্থ পরে উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন খাতে পুনর্বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে উচ্চ আয়ের ব্যক্তি করদাতাদের ওপর করহার বাড়ানোর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে সম্পদ কর চালুর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। নীতিগতভাবে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের বেশি কর প্রদান করা যৌক্তিক হলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—নিয়মিত করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে তারা কর প্রদানে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
প্রায় ২৩ হাজার উচ্চ আয়ের ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের ব্যাংক ডিপোজিটও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বৃহৎ করদাতা ইউনিটে করদাতার সংখ্যা মাত্র প্রায় ৪০০। দেখা যায়, প্রত্যক্ষ করের বড় অংশই এই সীমিত সংখ্যক করদাতার কাছ থেকে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এসব আর্থিক তথ্য থাকায় করজাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন করে করহার না বাড়িয়েও রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়ে আয় বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।
অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত শিল্প উৎপাদনে ধীরগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিল্প উৎপাদন সূচক কমেছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতিও কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর সময়ে উৎপাদন খাতের সাধারণ সূচক ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এই পতন শিল্প খাতের কার্যক্রমে শ্লথতা এবং ব্যবসায়িক গতিশীলতা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
নতুন সরকারের প্রাথমিক নীতিগত উদ্যোগ সত্ত্বেও ব্যবসায়িক আস্থা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে ফিরে আসেনি। বিনিয়োগ পরিস্থিতি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য উন্নতির লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বাজেটে ব্যবসা সহায়ক কী ধরনের উদ্যোগ আসে, সে অপেক্ষায় রয়েছে বেসরকারি খাত।
অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। বিপরীতে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেড়ে প্রায় ১৭ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে এই ঋণের বড় অংশ উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় না হয়ে সুদ পরিশোধ, পরিচালন ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ, বেতন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় হচ্ছে। এর মধ্যে পেনশন ও সংশ্লিষ্ট সুবিধার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হওয়ায় নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরির আর্থিক পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট (এপ্রিল ২০২৬) অনুযায়ী, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাড়ার তুলনায় দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি পর্যাপ্ত নয়। নতুন কর্মসংস্থানের বড় অংশই কৃষি খাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ বৃদ্ধি পেলেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ। এর মধ্যে প্রতি ১০টি নতুন চাকরির প্রায় ৭টি কৃষি খাতে সৃষ্টি হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অর্থনৈতিক কাঠামোগত পরিবর্তনের বিপরীত প্রবণতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে আমদানি কমে যাওয়ার কারণে কাস্টমস খাতে রাজস্ব আদায়ে চাপ তৈরি হয়েছে। এটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট অথবা আমদানি নিয়ন্ত্রণ নীতির প্রভাব হিসেবে দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর আদায় কমে যাওয়াও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দুর্বলতা ও কর-আনুগত্যের ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও আয়কর খাতে কিছু প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, সামগ্রিক রাজস্ব কাঠামো এখনো পরোক্ষ করের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। এ নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব ব্যবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাসহ বেসরকারি খাতের দীর্ঘদিনের অর্থায়ন, জ্বালানি ও বাজারে প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতার এখনো কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। এ পরিস্থিতিতে সরকার আগামী দুই বছর সময় চেয়েছে। একই সঙ্গে এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতা এবং বৃহৎ রফতানি বাজারে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নীতিমালা বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশকে আরও কঠিন করে তুলছে। তবে আসন্ন বাজেটে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্পষ্ট নীতিগত দিকনির্দেশনার ইঙ্গিত এখনো অনুপস্থিত।
স্থানীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় বাজেটকে একটি স্থিতিশীলতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের তাগিদ রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেট এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সুরক্ষা পায়, উৎপাদনশীল খাত সহায়তা পায় এবং অর্থনৈতিক আস্থা পুনরুদ্ধার হয়।
এ প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প পুনরুজ্জীবনে দৃশ্যমান ও শক্তিশালী নীতিগত ঘোষণা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরকে ‘এসএমই পুনরুজ্জীবনের বছর’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। এটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হতে পারে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বরাদ্দ যেন মধ্যবর্তী সময়ে কমে না যায়, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি ও আয়হ্রাসের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তামূলক কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। পাশাপাশি যুব ও স্বল্পদক্ষ শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এমন শ্রমঘন প্রকল্পে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়েছে। এসএমই ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ কর্মসংস্থান ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন কর ও প্রণোদনা থাকলেও সেগুলোর বড় অংশই কার্যকরভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। বছরে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার আয়করমুক্ত থাকলেও অনেক নারী উদ্যোক্তা এ সুবিধা সম্পর্কে জানেন না বা প্রয়োগ করতে পারছেন না। অন্যদিকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার ভ্যাটমুক্ত থাকলেও পূর্বের ৫০ লাখ টাকা সীমা থেকে নামিয়ে আনা এবং প্রায় ১৫০ ধরনের ব্যবসাকে ভ্যাট অব্যাহতির বাইরে আনার ফলে অনেক ক্ষেত্রে এই সুবিধা কার্যকারিতা হারিয়েছে।
আয়কর ও ভ্যাট—উভয় ক্ষেত্রে সমপরিমাণ অব্যাহতি সীমা নির্ধারণ করলে বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের নতুন উদ্যোগে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে বলে মত দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অর্থ আইনে থাকা নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা করমুক্ত আয়ের সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে।
বর্তমান ভ্যাট কাঠামোকে এসএমই-বান্ধব নয় বলেও সমালোচনা রয়েছে। দেশে বর্তমানে ১১টি ভ্যাট স্তর বিদ্যমান। মোট ভ্যাটের প্রায় ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ আসে ১৫ শতাংশ হারের নির্দিষ্ট খাত থেকে, বাকি প্রায় অর্ধেক আসে বিভিন্ন ট্রাঙ্কেটেড উৎস থেকে। ফলে এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে এবং ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একক ভ্যাট হার এবং দ্রুত ক্রেডিট ব্যবস্থার জন্য কার্যকর অবকাঠামো গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। ভ্যাট ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ক্যাসকেডিং কর এড়ানো হলেও বাংলাদেশে তা এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই এসএমই রপ্তানিকারকদের দাবি ছিল। সম্প্রতি আটটি খাতে ১০০ শতাংশ ব্যাংক গ্যারান্টির ভিত্তিতে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে, এসব খাতের বেশির ভাগই প্রকৃত এসএমই নয়। পাশাপাশি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ শতাংশ ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়া কঠিন এবং ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ করাও অনেকের জন্য বাস্তবসম্মত নয়। এ কারণে নতুন এসআরও পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে।
আয়কর ব্যবস্থায় উৎসে কর কর্তন এবং ন্যূনতম কর ব্যবস্থাও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে নিয়মিত করদাতাদের প্রকৃত করভার প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। ন্যূনতম কর অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক হয়ে দাঁড়াচ্ছে এবং উৎসে কর ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সমন্বয়যোগ্য নয় এমন উৎসে কর মোট জিডিপির প্রায় দশমিক ৯ থেকে ২ দশমিক ১ শতাংশ সমপরিমাণ কার্যকর মূলধন আটকে রাখছে, যা বিনিয়োগকে বছরে দশমিক ৩৬ থেকে দশমিক ৮৪ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এর ফলে করজাল সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন ধরে স্থবির রয়েছে।
বাজেটকে একটি নিয়মিত বার্ষিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হলেও এর সঙ্গে নীতিগত সমন্বয়ের ঘাটতি অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। নির্বাচনী ইশতাহারে ফিসকাল ও মনিটারি নীতি সমন্বয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে সরকার চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। পলিসি রেট দীর্ঘদিন ধরে ১০ শতাংশে স্থির থাকলেও মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।
এ অবস্থায় একদিকে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে মুদ্রানীতি সংকোচনমূলক অবস্থায় রয়েছে। ফলে বাজেট ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় না থাকায় অর্থনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কিছু করনীতি পুনর্গঠন রাজস্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কাঠামোগত সংস্কারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

