দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় আটকে থাকা ঢাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রোরেল প্রকল্প আবারও সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যেই আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য মোট ১২ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন স্থবির থাকা এমআরটি-১ এবং এমআরটি-৫ (উত্তর রুট) প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সমাপ্তির পথে থাকা এমআরটি-৬ প্রকল্পের জন্যও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ হাজার ১৫০টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্পগুলো অন্যতম বড় বরাদ্দ পেয়েছে। নতুন এডিপি অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি-১ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় ৮১৭ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি-৫ (উত্তর রুট) প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ বেড়েছে ৪৩১ শতাংশ। এ ছাড়া উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত চলমান এমআরটি-৬ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা, যা আগের তুলনায় ৮৬ শতাংশ বেশি।
২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এমআরটি-১ এবং এমআরটি-৫ (উত্তর) প্রকল্প অনুমোদন করে। দুটি প্রকল্পের সম্মিলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৩ হাজার ৭৯৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে এমআরটি-১ প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা এবং এমআরটি-৫ প্রকল্পের জন্য ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পেই অর্থায়ন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পগুলোর জন্য তারা বেশি অর্থ বরাদ্দ চেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এমআরটি-১ ও এমআরটি-৫-এর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অর্থায়নকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়েও সম্প্রতি বৈঠক হয়েছে।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, এমআরটি-১ ও এমআরটি-৫-এর কিছু নির্মাণ প্যাকেজে দরপত্রের মূল্য সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি এসেছে। এ কারণে দরদাতাদের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করে ব্যয় কমানোর চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য, এসব বিষয় দ্রুত সমাধান করে নির্মাণকাজ আবার শুরু করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।
পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতেই স্থবির প্রকল্পগুলোতে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু প্রকল্পগুলোর কাজ পুনরায় শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তাই এডিপিতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

