বাংলাদেশ সরকার প্রতি অর্থ বছরের শুরুতে সারা বছরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। রাষ্ট্রের কোন খাত থেকে কত টাকা আসবে, কোন খাতে কত ব্যয় হবে, কোন খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং কোন খাত তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকবে—এসব প্রশ্নের উত্তরই মূলত বাজেটে নির্ধারিত হয়। সহজভাবে বললে, সরকারের পরিকল্পিত আয়-ব্যয়ের হিসাবই হলো বাজেট। তবে বাজেট শুধু সংখ্যার হিসাব নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার, নীতি, সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ ভাবনার প্রতিফলন।
সরকার যখন আয়ের পরিকল্পনা করে, তখন সেই আয়ের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত জনগণ ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই আসে। কর, ফি, শুল্ক, সেবা মূল্য—নানা পথে নাগরিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রকে অর্থ দেয়। আবার সরকার যখন ব্যয়ের পরিকল্পনা করে, তখন সেই অর্থ বেতন, ভাতা, ভর্তুকি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আবার জনগণের জীবন ও অর্থনীতিতে ফিরে আসে। তাই সরকারের আয় জনগণের ব্যয়ের কারণ হতে পারে, আর সরকারের ব্যয় জনগণের আয়ের উৎসে পরিণত হতে পারে। এই কারণেই বাজেটকে কেবল সরকারি হিসাব হিসেবে দেখলে ভুল হবে; এটি পুরো সমাজের অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি বড় কাঠামো।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বাজেট আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে একদিকে জনসংখ্যা বড়, অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক সেবার চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে। রাষ্ট্র যদি যথেষ্ট আয় করতে না পারে, তাহলে প্রয়োজনীয় খাতে পর্যাপ্ত ব্যয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার আয় কম হলেও ব্যয় বেশি করতে চাইলে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই অবস্থাই দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করে।
২০২৫-২৬ সালের মোট বাজেট ব্যয় ধার্য করা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যয় অর্জনের জন্য আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—মোট রাজস্ব আয় ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, কর ছাড়া আয় ৪৬ হাজার কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ ঋণ ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা। এই সংখ্যাগুলো দেখলেই বোঝা যায়, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঋণ একটি বড় অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের নিজস্ব আয় পুরো ব্যয় বহনের জন্য যথেষ্ট নয়।
অন্যদিকে ব্যয়ের খাতগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, পরিচালন ব্যয়—যার মধ্যে বেতন, ভর্তুকি ও প্রণোদনা রয়েছে—ধার্য করা হয়েছে ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ ৯৫ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা, শিক্ষায় ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য খাতে ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা। এই হিসাব আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে: রাষ্ট্রের ব্যয়ের অগ্রাধিকার কোথায় থাকা উচিত? বেতন, প্রশাসনিক ব্যয়, ঋণের সুদ ও চলতি খরচ অবশ্যই প্রয়োজনীয়; কিন্তু একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাতে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য।
বাংলাদেশ প্রতিবছর ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করে। ঘাটতি বাজেট মানে হলো, সরকারের ব্যয়ের প্রাক্কলন আয়ের চেয়ে বেশি। এই ঘাটতি পূরণ করতে সরকার দেশীয় ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করে। কোনো দেশের জন্য সীমিত মাত্রায় ঋণ গ্রহণ অস্বাভাবিক নয়; বরং উন্নয়ন, অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ঋণ কখনো কখনো প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন ঘাটতি পূরণের প্রধান উপায় হয়ে দাঁড়ায় ঋণ, অথচ নিজস্ব আয় বাড়ানোর শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে ওঠে না।
ঋণনির্ভর বাজেটের একটি বড় ঝুঁকি হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর বোঝা তৈরি হওয়া। আজ যে ঋণ নেওয়া হচ্ছে, আগামী দিনে তার সুদ ও আসল পরিশোধ করতে হবে জনগণের অর্থ থেকেই। ফলে বাজেটের একটি বড় অংশ চলে যেতে পারে ঋণের সুদ পরিশোধে, আর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও উৎপাদনশীল খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। এ কারণেই ঘাটতি বাজেটের অস্বাস্থ্যকর নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসা বাংলাদেশের জন্য জরুরি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ কী? এর উত্তর খুঁজতে হলে শুধু ব্যয়ের দিকে তাকালে হবে না; আয়ের দিকেও গভীরভাবে নজর দিতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বড় সমস্যা হলো সবার আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নেই। অনেকে প্রকৃত আয় গোপন করে, অনেকে সম্পদের সঠিক হিসাব দেয় না, অনেক ক্ষেত্রে লেনদেনের যথাযথ নথি থাকে না, আবার দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের প্রাপ্য রাজস্ব হারিয়ে যায়। ফলে যে পরিমাণ কর আদায় হওয়ার কথা, তা হয় না।
কর আদায় কম হলে বাজেটও ছোট থাকে। ২০ কোটি মানুষের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট হিসাব করলে প্রতিজনের জন্য সারা বছরের বাজেট দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা। এই অঙ্ক খুব বড় নয়, বিশেষ করে যখন একটি মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রশাসনিক সেবা ও সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়াতে হলে বাজেটের আকার বাড়াতে হবে, আর বাজেটের আকার বাড়াতে হলে স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক করব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
এখানেই আসে কর সুশাসনের বিষয়। কর সুশাসন মানে শুধু কর বাড়ানো নয়; বরং সঠিক ব্যক্তির কাছ থেকে সঠিক পরিমাণ কর আদায় নিশ্চিত করা। একজন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান যে কর হিসাব জমা দিচ্ছে, সেই তথ্যের সঙ্গে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎসের তথ্য মিলিয়ে দেখা—এটাই কর সুশাসনের মূল কথা। এই উৎসগুলোর মধ্যে থাকতে পারে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ব্যাংক, বিমা, শেয়ার সংরক্ষণ-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকর্তা, জীবনযাত্রার ধরন, ভূমি অফিস, সিটি করপোরেশন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ অফিস, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ইমিগ্রেশন, স্কুল, হাসপাতালসহ নানা প্রতিষ্ঠান।
যদি কোনো ব্যক্তি বড় সম্পদের মালিক হন, নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করেন, দামি গাড়ি ব্যবহার করেন, শহরে একাধিক সম্পত্তি রাখেন, সন্তানের ব্যয়বহুল শিক্ষার খরচ বহন করেন, অথচ কর হিসাবপত্রে খুব কম আয় দেখান—তাহলে তা সহজেই যাচাইযোগ্য হওয়া উচিত। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বড় লেনদেন করে, কিন্তু কর প্রদানের ক্ষেত্রে কম আয় দেখায়, সেটিও তথ্য মিলানোর মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব। এই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হলে কর ফাঁকির সুযোগ কমবে এবং সৎ করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না।
কর সুশাসনের প্রথম শর্ত হলো স্বচ্ছ লেনদেন ব্যবস্থা। যত বেশি লেনদেন আনুষ্ঠানিক ও নথিভুক্ত হবে, তত সহজে আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলিয়ে দেখা যাবে। নগদ লেনদেনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দুর্নীতি, আয় গোপন, ঘুষ, কর ফাঁকি ও অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের সুযোগ বাড়ায়। বিপরীতে স্বচ্ছ লেনদেন ব্যবস্থা মানুষের আর্থিক আচরণকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে। লেনদেনের তথ্য সহজে যাচাই করা গেলে মানুষ মিথ্যা বলার সুযোগ কম পায়। অর্থাৎ লেনদেনের স্বচ্ছতা শুধু রাজস্ব বাড়ায় না, সামাজিক সততাও বাড়ায়।
আমাদের সমাজে প্রতিদিন পত্র-পত্রিকায় নানা খবর আসে। জননিরাপত্তার অভাব, দুর্নীতি, রাজনৈতিক ও সামাজিক হানাহানি, ভূমির অবৈধ ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ, ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার সংস্কৃতি এবং পরে রাষ্ট্রকে চাপের মুখে ফেলার প্রবণতা—এসব খবর নতুন নয়। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দুর্বল শাসনব্যবস্থা, অস্পষ্ট অর্থনৈতিক লেনদেন এবং জবাবদিহির অভাবের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। যখন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আয়-ব্যয় অস্বচ্ছ থাকে, তখন দুর্নীতি ও অনিয়ম টিকে থাকার জায়গা পায়।
এই অবস্থায় বাজেটের ব্যয়ের অগ্রাধিকারও অনেক সময় জনকল্যাণের চেয়ে প্রশাসনিক ও নির্মাণনির্ভর খাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। নির্মাণ ব্যয়কে প্রায়ই উন্নয়ন ব্যয় বলা হয়, কিন্তু সব নির্মাণই প্রকৃত উন্নয়ন নয়। কোনো সড়ক, সেতু, ভবন বা প্রকল্প তখনই উন্নয়ন, যখন তা মানুষের জীবনমান, উৎপাদনশীলতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ায়। শুধু ব্যয় বাড়লেই উন্নয়ন হয় না; ব্যয়ের গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে বাজেটে সবার আগে গুরুত্ব পায় বেতন, ভাতা ও দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ। এগুলো অবশ্যই রাষ্ট্র চালানোর জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু সমস্যা হলো, এই খাতগুলো বেশি চাপ তৈরি করলে সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো দীর্ঘমেয়াদি মানবিক বিনিয়োগ কম গুরুত্ব পায়। অথচ একটি দেশের প্রকৃত শক্তি শুধু ভবন, রাস্তা বা বড় প্রকল্পে নয়; মানুষের দক্ষতা, সুস্বাস্থ্য, নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার ওপর নির্ভর করে।
কর সুশাসন বাস্তবায়ন হলে পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব। সবার কাছ থেকে সঠিকভাবে কর আদায় করা গেলে মোট কর আয় অনেক বেড়ে যেতে পারে। তখন সরকার শুধু ঋণের ওপর নির্ভর করে বাজেট বড় করবে না; বরং নিজস্ব আয়ের শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে ব্যয়ের পরিকল্পনা করতে পারবে। এতে ঋণের চাপ কমবে, সুদ পরিশোধের বোঝা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং বাজেটের অগ্রাধিকার খাতে পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে হলে সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানো জরুরি। সামাজিক নিরাপত্তা দরিদ্র, বয়স্ক, অসহায়, প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। শিক্ষা মানুষের কর্মদক্ষতা বাড়ায়, সামাজিক সচেতনতা তৈরি করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উন্নত করে। স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ মানুষের জীবনমান বাড়ায় এবং চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে পরিবারকে দারিদ্র্যে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়। প্রতিরক্ষা খাতও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এসব খাতে যথেষ্ট ব্যয় করতে হলে শক্তিশালী রাজস্বভিত্তি দরকার।
সাহসী ও দক্ষ নেতৃত্ব ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব নয়। কারণ কর সুশাসন বাস্তবায়ন করতে গেলে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর বাধা আসবে। যারা দীর্ঘদিন আয় গোপন করেছে, অবৈধ সম্পদ তৈরি করেছে, ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করেছে কিন্তু রাষ্ট্রকে প্রাপ্য দেয়নি—তারা সহজে স্বচ্ছ ব্যবস্থাকে স্বাগত জানাবে না। তাই রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর যাচাইব্যবস্থা একসঙ্গে দরকার।
তবে এটি অসম্ভব নয়। বাংলাদেশে মানুষের কর্মশক্তি আছে, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আছে, উদ্যোক্তা আছে, কৃষি-শিল্প-সেবা খাতের বিস্তার আছে। প্রয়োজন শুধু ন্যায্য ও স্বচ্ছ কাঠামো। যদি আয়-ব্যয়ের তথ্য সঠিকভাবে সংযুক্ত করা যায়, কর ব্যবস্থায় জবাবদিহি আনা যায় এবং লেনদেনকে স্বচ্ছ করা যায়, তাহলে কর আদায়ের ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত হবে। এতে সৎ নাগরিকের ওপর চাপ কমবে, অসৎ করফাঁকিদাতারা চিহ্নিত হবে এবং রাষ্ট্রের আয় বাড়বে।
বাজেট তখন শুধু হিসাবের খাতা থাকবে না; তা হয়ে উঠবে সামাজিক ন্যায়বিচারের হাতিয়ার। রাষ্ট্র তখন বলতে পারবে—যার আয় বেশি, সে বেশি অবদান রাখবে; যার প্রয়োজন বেশি, সে বেশি সুরক্ষা পাবে। এটাই একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের মূল দর্শন। জনগণের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ আবার জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে—এই বিশ্বাস তৈরি করা গেলে কর প্রদানের সংস্কৃতিও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঋণনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব আয় বাড়ানো, দুর্নীতি কমানো, আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাজেটের অগ্রাধিকার মানবিক খাতে স্থানান্তর করা। এটি একদিনে হবে না, কিন্তু শুরু করতে হবে এখনই। কর সুশাসন, স্বচ্ছ লেনদেন, তথ্য মিলানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং জনকল্যাণমুখী ব্যয়নীতি—এই কয়েকটি পথ অনুসরণ করলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।
অতএব, বাজেট বড় করার প্রশ্নটি শুধু অর্থের নয়; এটি সততা, ন্যায়, শাসন ও রাষ্ট্রচিন্তার প্রশ্ন। কর সুশাসন বাস্তবায়ন হলে রাজস্ব বাড়বে, দুর্নীতি কমবে, ঋণনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বাড়ানো যাবে। আজ যা অনেকের কাছে দুঃস্বপ্ন মনে হয়, সঠিক নেতৃত্ব ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায় সেটিই হতে পারে বাংলাদেশের বাস্তব ভবিষ্যৎ।

