কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে উত্তরণের জন্য কৃষিপণ্যকে অবশ্যই মূল্য সংযোজিত কৃষি-শিল্পপণ্যে রূপান্তর করতে হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এই রূপান্তরের জন্য প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও জ্ঞানের কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য।
গতকাল শনিবার ঢাকার পুলিশ প্লাজা কনকর্ডের এমসিসিআই কনফারেন্স হলে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ আয়োজিত বাংলাদেশ কৃষি-শিল্প গণমাধ্যম পুরস্কার ২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, “এই রূপান্তর দেশীয় বাজারকে আরও শক্তিশালী করবে, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি আরও জানান, কৃষি ও কৃষি-প্রক্রিয়াজাত খাতে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নতুন উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনা খুঁজে পেতে অনুপ্রাণিত করবে এবং সরকারকে আরও কার্যকর কৃষি ও শিল্পবান্ধব নীতি প্রণয়নে সহায়তা করবে।
সরকারের উন্নয়ন ভাবনার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আমার একটি পরিকল্পনা আছে।’ আজ সেই পরিকল্পনা রূপ নিয়েছে ‘আমাদের পরিকল্পনা’-এ, যেখানে কৃষি জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকার কৃষিঋণের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ত্রী বলেন, “দেশ যখন অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বড় ঋণ চাপে রয়েছে এবং প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকার অকার্যকর ঋণের পরিস্থিতি বিদ্যমান, তখন এই উদ্যোগ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি গণমাধ্যমকে কৃষি খাতের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আরও গভীর প্রতিবেদন তৈরির আহ্বান জানান। তার মতে, এসব প্রতিবেদন নীতিনির্ধারণে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, “তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি এসব প্রতিবেদন সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
অনুষ্ঠানে প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা বলেন, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত। তিনি বলেন, “সঠিক নীতি ও দিকনির্দেশনা পেলে এই খাত অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।” তিনি আরও জানান, তৈরি পোশাক খাতের পর দেশের অন্যতম বড় রপ্তানি খাত হিসেবে কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ইলিয়াস মৃধা বলেন, এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য হলো সাংবাদিকদের কৃষি-প্রক্রিয়াজাত খাতের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলো আরও গভীরভাবে তুলে ধরতে উৎসাহিত করা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল। মুদ্রিত গণমাধ্যম ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের স্টাফ রিপোর্টার সুকান্ত হালদার এবং দ্য ডেইলি সানের রফিকুল ইসলাম ও এম মুনির হোসেন।
টেলিভিশন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের দেলোয়ার হোসেন দোলন এবং একাত্তর টিভির রাকিব হোসেন। অনলাইন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নাজমুল হোসেন এবং একুশে পত্রিকার শরিফুল রুকন। তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল কৃষি-প্রক্রিয়াজাত খাত নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে বিজয়ীদের নির্বাচন করেন।
বিচারক প্যানেলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রওবায়েত ফেরদৌস, বোম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক খুরশিদ আহমদ ফরহাদ এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আউটরিচ ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
প্রাণ গ্রুপ প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার চালু করে। এর লক্ষ্য হলো কৃষি ও কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্পে সচেতনতা, উদ্ভাবন এবং উন্নয়নে অবদান রাখা সাংবাদিকদের স্বীকৃতি দেওয়া।

