দেশের অর্থনীতির প্রধান চারটি খাতেই গত মে মাসে সম্প্রসারণের ধারা বজায় ছিল। উৎপাদন ও পরিষেবা খাতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সংকোচন কাটিয়ে নির্মাণ খাতও আবার সম্প্রসারণে ফিরেছে। তবে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এর গতি কিছুটা কমেছে।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) প্রকাশিত পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, মে মাসে দেশের সামগ্রিক পিএমআই সূচক এপ্রিলের তুলনায় ৮ দশমিক ২ পয়েন্ট বেড়ে ৬২ দশমিক ৮-এ পৌঁছেছে।
পিএমআই সূচক ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। কোনো মাসে সূচক ৫০-এর ওপরে থাকলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ বোঝায়। ৫০-এর নিচে অবস্থান সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। আর ৫০ মানে আগের মাসের তুলনায় কোনো পরিবর্তন হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি খাত টানা নবম মাসের মতো সম্প্রসারণে রয়েছে। যদিও আগের মাসগুলোর তুলনায় প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হয়েছে। অন্যদিকে উৎপাদন খাত টানা দ্বিতীয় মাসের মতো সম্প্রসারিত হয়েছে এবং এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার আরও বেড়েছে। নতুন অর্ডার, রপ্তানি আদেশ, কাঁচামাল ও উপকরণ ক্রয় এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খাতের এ অগ্রগতি হয়েছে।
নির্মাণ খাতের চিত্রও ইতিবাচক। টানা তিন মাস সংকোচনের পর মে মাসে খাতটি আবার সম্প্রসারণে ফিরেছে। একই সময়ে পরিষেবা খাত টানা ২০তম মাসের মতো প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে।
তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও ব্যবসা পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার কথাও উঠে এসেছে জরিপে। অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চাপে রয়েছে।
এ ছাড়া ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন পরিকল্পনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কাঁচামালসহ অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাড়তে থাকায় মুনাফার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন উত্তরদাতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সামগ্রিকভাবে মে মাসে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্র ফুটে উঠলেও ব্যবসায়ীদের সামনে বিদ্যমান ব্যয় ও জ্বালানি-সংকটের চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে।

