বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে নতুন সরকার। আগামী অর্থবছর ২০২৬–২৭-এর জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার প্রথমবারের মতো ৯ লাখ কোটি টাকার সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অর্থমন্ত্রী আগামীকাল তাঁর প্রথম বাজেট উপস্থাপন করবেন। বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ”।
সরকার জানিয়েছে, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে তিনটি— অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে এগোনো।
গত তিন বছর ধরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমছে। সর্বশেষ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে যায়, যা করোনা পরবর্তী সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে ২০২৩ সাল থেকে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। আগামী অর্থবছরে সরকার ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং ৭.৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে।
রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ সংগ্রহ করতে হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে। গত অর্থবছরে এনবিআর আয় ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। ঘাটতি পূরণে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী বাজেটে ঘাটতি ধরা হচ্ছে জিডিপির ৩.৫৫ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে। খরচের দিক থেকে মোট ব্যয় ধরা হচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।
এই ব্যয়ের বড় অংশ যাবে ঋণের সুদ পরিশোধ, বেতন-ভাতা, ভর্তুকি ও উন্নয়ন খাতে। নতুন বেতন কমিশনের আংশিক বাস্তবায়নের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও বড় বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। শিক্ষা খাতে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি এবং স্বাস্থ্য খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আদায় ও উন্নয়ন ব্যয় বাস্তবায়ন।
নতুন বাজেটে “ক্রিয়েটিভ ইকোনমি” নামে একটি নতুন উদ্যোগও ঘোষণা করা হবে, যেখানে চলচ্চিত্র, সংগীত, প্রকাশনা, সফটওয়্যার ও গেমিংসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

