২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে একগুচ্ছ কর ও শুল্ক সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর প্রশাসন সহজীকরণ, ব্যবসা পরিচালনার সময় ও ব্যয় কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে করের হার কমানোর প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে নগদ সহায়তার ওপর আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে উৎসে করের হার ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, করহার অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্ত ব্যবসা খাতে নীতিগত স্থিতিশীলতার একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন একটি এসআরও জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি রপ্তানিতে যুক্ত হতে উৎসাহ পাবে। প্রত্যক্ষ রপ্তানিকারকরা দেশীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ পাবেন, ফলে স্থানীয় সরবরাহ চেইন আরও শক্তিশালী হবে এবং ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ সহজ হবে।
একই সঙ্গে বন্ড সুবিধার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ইউনিট আলাদা আইনগত সত্তা হলেও যদি মূল প্রতিষ্ঠানের ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে, তাহলে তারা ধারাবাহিকভাবে বন্ড সুবিধা পাবে। এতে রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করে পুনঃরপ্তানির শর্ত যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এ উদ্যোগ বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সহায়ক হবে।
পরিষ্কার জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং অগ্রিম কর অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়া ব্যাটারি শিল্পের বিকাশে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, সেল কম্পোনেন্ট, ব্যাটারি প্যাক ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ আমদানির সুবিধা ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে। একইসঙ্গে সোডিয়াম-আয়ন ও লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণের ওপর শুল্ক ও কর অব্যাহতি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন শিল্প বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।
শিল্প উৎপাদনের ব্যয় কমাতে কাঁচামাল আমদানির সাধারণ শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, এতে উৎপাদন ব্যয় কিছুটা হ্রাস পাবে। একইসঙ্গে আমদানিকৃত সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিকের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে শুল্ক সুবিধার অপব্যবহার কমবে এবং শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
পলিয়েস্টার স্পান ইয়ার্ন উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে আমদানিকৃত পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবারের ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। এটি দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব শিল্প পরিচালনায় ব্যবহৃত ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট)–সম্পর্কিত রাসায়নিক আমদানির শুল্ক অব্যাহতি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
করনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত:

