Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, জুন 13, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » প্রস্তাবিত বাজেটে এমন কী আছে—যা স্বস্তি দিয়েছে ব্যবসায়ীদের?
    অর্থনীতি

    প্রস্তাবিত বাজেটে এমন কী আছে—যা স্বস্তি দিয়েছে ব্যবসায়ীদের?

    নিউজ ডেস্কজুন 13, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে একগুচ্ছ কর ও শুল্ক সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর প্রশাসন সহজীকরণ, ব্যবসা পরিচালনার সময় ও ব্যয় কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে করের হার কমানোর প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে নগদ সহায়তার ওপর আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

    অন্যদিকে উৎসে করের হার ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, করহার অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্ত ব্যবসা খাতে নীতিগত স্থিতিশীলতার একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

    রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন একটি এসআরও জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি রপ্তানিতে যুক্ত হতে উৎসাহ পাবে। প্রত্যক্ষ রপ্তানিকারকরা দেশীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ পাবেন, ফলে স্থানীয় সরবরাহ চেইন আরও শক্তিশালী হবে এবং ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ সহজ হবে।

    একই সঙ্গে বন্ড সুবিধার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ইউনিট আলাদা আইনগত সত্তা হলেও যদি মূল প্রতিষ্ঠানের ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে, তাহলে তারা ধারাবাহিকভাবে বন্ড সুবিধা পাবে। এতে রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করে পুনঃরপ্তানির শর্ত যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এ উদ্যোগ বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে সহায়ক হবে।

    পরিষ্কার জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং অগ্রিম কর অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    এছাড়া ব্যাটারি শিল্পের বিকাশে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, সেল কম্পোনেন্ট, ব্যাটারি প্যাক ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ আমদানির সুবিধা ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব রয়েছে। একইসঙ্গে সোডিয়াম-আয়ন ও লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণের ওপর শুল্ক ও কর অব্যাহতি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন শিল্প বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।

    শিল্প উৎপাদনের ব্যয় কমাতে কাঁচামাল আমদানির সাধারণ শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, এতে উৎপাদন ব্যয় কিছুটা হ্রাস পাবে। একইসঙ্গে আমদানিকৃত সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিকের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে শুল্ক সুবিধার অপব্যবহার কমবে এবং শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

    পলিয়েস্টার স্পান ইয়ার্ন উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে আমদানিকৃত পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবারের ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। এটি দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব শিল্প পরিচালনায় ব্যবহৃত ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট)–সম্পর্কিত রাসায়নিক আমদানির শুল্ক অব্যাহতি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    করনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত:

    কর ব্যবস্থাপনা সহজীকরণের অংশ হিসেবে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বর্তমানে মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হলেও ভবিষ্যতে তা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসা পরিচালনায় প্রশাসনিক ব্যয় ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এছাড়া করদাতাদের জন্য অর্থবছরের শুরুতেই ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখার প্রস্তাবও রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক খরচের ক্ষেত্রে পরিতোষিক, আপ্যায়ন, নমুনা পণ্য এবং প্রচারণা ব্যয়ের গ্রহণযোগ্য সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা করদাতাদের ওপর আর্থিক চাপ কিছুটা কমাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে বাজেটে বিভিন্ন খাতে উৎসে করের হার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণের উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। এতে সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগ ও লেনদেন প্রক্রিয়ায় স্বস্তি আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    রঙ ও প্রসেসিং শিল্পে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা:

    রঙ ও প্রসেসিং শিল্পে জ্বালানি সরবরাহের ওপর উৎসে কর ১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাত কাঁচামালের ওপর করহার ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ আয়ের ওপর উৎসে কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব এসেছে। এ হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বিদেশে লভ্যাংশ প্রেরণ সহজ হবে এবং দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত বা কালো টাকা বৈধ করার একটি সুযোগ রাখা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। প্রস্তাব অনুযায়ী, জমি, ভবন বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে দলিলে উল্লেখিত মূল্যের তুলনায় প্রকৃত লেনদেনমূল্য বেশি হলে, সেই অতিরিক্ত অপ্রদর্শিত অর্থ স্বপ্রণোদিতভাবে ঘোষণা করে নিয়মিত করহার অনুযায়ী কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করা যাবে। এই সুযোগ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

    যদিও বিভিন্ন মহল থেকে এ ধরনের সুযোগ না রাখার আহ্বান জানানো হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবিত অর্থবিলে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে জাতীয় সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ করেননি। ফলে বিষয়টি সংসদে আলাদা আলোচনা ছাড়াই অর্থবিলের অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।

    অর্থবিলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর প্রথম তফসিল সংশোধনের প্রস্তাব অনুযায়ী, জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচায় প্রকৃত মূল্য দলিলমূল্যের চেয়ে বেশি হলে, সেই অতিরিক্ত অপ্রদর্শিত অর্থের ওপর ব্যক্তিশ্রেণির প্রযোজ্য নিয়মিত করহার অনুযায়ী আয়কর পরিশোধের সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এ অর্থ স্বপ্রণোদিতভাবে কর পরিশোধ করা হলে তার উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না এবং কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণও করা যাবে না।

    এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। বরং ভূমি ও ফ্ল্যাট কেনাবেচায় প্রকৃত লেনদেনমূল্য প্রকাশে করদাতাদের উৎসাহিত করতেই সীমিত একটি সুযোগ রাখা হয়েছে, যা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    এছাড়া বাজেটে আবাসিক করদাতাদের পুনঃবিমা প্রিমিয়ামের ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

    বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রশাসনিক গতি বৃদ্ধির উদ্যোগ:

    বিনিয়োগ আকর্ষণ ও ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে একগুচ্ছ প্রশাসনিক সংস্কারের প্রস্তাব এসেছে। এর অংশ হিসেবে অনলাইনে ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের জন্য ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, কোম্পানি নিবন্ধনের সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হবে। একই সঙ্গে কোনো কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন বা আপত্তি না জানালে আবেদন জমার দিন থেকেই সেটিকে অনুমোদিত হিসেবে গণ্য করার বিধান চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কারখানা এলাকায় ইউটিলিটি সংযোগ পাওয়ার সময়ও ৪৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ২৪ ঘণ্টা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বাইরে শিল্পায়ন বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্প এবং ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণে ত্বরিত অবচয় সুবিধার আওতায় প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ অবচয় সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত উৎপাদন শুরু করতে পারেন। পণ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি ল্যাবরেটরির পাশাপাশি আইএসও স্বীকৃত বেসরকারি ল্যাবরেটরির সেবাও গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও সহজ হবে, উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং রপ্তানি খাতে নতুন গতি আসতে পারে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি উৎপাদন, পুনর্ব্যবহারযোগ্য শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিমুখী শিল্প সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু কর ও শুল্ক ছাড় যথেষ্ট নয়; এগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক জটিলতা দূরীকরণ এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। তাদের মতে, এসব নিশ্চিত করা গেলে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়বে।

    বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। তার মতে, উৎসে কর বাস্তবসম্মতভাবে পর্যালোচনা করা গেলে দীর্ঘদিনের হয়রানি কমবে। তবে তিনি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, করব্যবস্থার সংস্কার এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর সুবিধা সম্প্রসারণ রপ্তানিমুখী শিল্পের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন। তার মতে, এআইটি সমন্বয় ও ফেরতের উদ্যোগ তারল্য সংকট কমাবে এবং শুল্ক সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে।

    বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বাজেটকে সংস্কারমুখী ও ব্যবসাবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকিং, কর ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের অঙ্গীকার দীর্ঘমেয়াদে শিল্প খাতকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।

    প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘ব্যবসাবান্ধব বাজেট’ হিসেবে দেখছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তবে সংগঠনটির মতে, এই বাজেটের সফলতা পুরোপুরি নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।

    ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, সামগ্রিকভাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তবে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ঘোষিত সংস্কারগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে বাজেটের প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না।

    প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি আকারের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ এবং ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’কে প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর এবার বিএনপি জোট নতুন বাজেট উপস্থাপন করেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় এই বাজেট ঘোষণা করা হয়। এতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের বড় চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এটি বিএনপি সরকারের দেওয়া ১৭তম বাজেট হলেও নতুন নেতৃত্বের অধীনে প্রথম বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    চলতি অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতির মধ্যেও বিশাল আকারের এই বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। এর বাইরে আরও ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ রাখা হয়েছে এডিপিবহির্ভূত খাতে।

    এই বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে অর্থায়ন। সরকারের প্রধান রাজস্ব উৎস জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা অনেক বিশ্লেষকের মতে উচ্চাভিলাষী। কারণ, চলতি বাজেটে ইতোমধ্যে এক লাখ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে।

    সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট একদিকে যেমন ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে এর বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়েও তৈরি করছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, বড় আকারের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি—সবকিছু মিলিয়ে বাজেট এখন কেবল নীতিগত ঘোষণা নয়, বরং কার্যকর বাস্তবায়নের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, কাগজে ঘোষিত পরিকল্পনা যতই উচ্চাভিলাষী হোক না কেন, তার প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হবে মাঠপর্যায়ে এর বাস্তব রূপে। বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনের যে প্রত্যাশা বাজেট ঘিরে তৈরি হয়েছে, তা পূরণ হবে কি না—সেই উত্তরই আগামী অর্থবছরে দেশের অর্থনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।

    প্রশ্ন তাই থেকে যায়—এই বিশাল বাজেট কি সত্যিই অর্থনীতিকে নতুন পথে এগিয়ে নেবে, নাকি বাস্তবায়নের চাপে তা কেবলই পরিসংখ্যানের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে?

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    কেমন হতে পারে আগামী তিন বছরের অর্থনীতির চিত্র?

    জুন 13, 2026
    মতামত

    ফিলিস্তিনি অভিজাতরা এক শতাব্দী ধরে প্রতিরোধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে

    জুন 13, 2026
    অর্থনীতি

    রপ্তানি আয় পুনরুদ্ধারে বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে: বিকেএমইএ

    জুন 13, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.