বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত সামান্য বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দিন শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুত দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ২৪৫ বিলিয়ন ডলার।
তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্ধারিত হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৪৩৮ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১২ আগস্ট দিন শেষে মোট মজুত ছিল ৩৭ দশমিক ০৬৬ বিলিয়ন ডলার। ওই দিন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী মজুত ছিল ৩২ দশমিক ২৬০ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ ছয় দিনের ব্যবধানে মোট মজুত যেমন বেড়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবেও মজুত কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে মজুত ধীরে ধীরে বাড়ছিল।
১০ আগস্ট দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ছিল ৩৬ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। পরদিন ১১ আগস্ট তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। এরপর ১২ আগস্ট মজুত আরও বেড়ে ৩৭ দশমিক ০৬৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
সর্বশেষ ১৮ আগস্ট তা আরও বেড়ে ৩৭ দশমিক ২৪৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে মোট মজুতের পরিমাণ দেখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হিসাবপদ্ধতিতে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য মজুত কত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত পরিমাপের ক্ষেত্রে মোট মজুত এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্ধারিত হিসাবপদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম৬ পদ্ধতি বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত একটি হিসাবপদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুত থেকে নির্দিষ্ট ধরনের স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দেওয়া হয়। ফলে এই হিসাব মোট মজুতের তুলনায় কম হয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেই কারণেই মোট মজুত ৩৭ দশমিক ২৪৫ বিলিয়ন ডলার হলেও বিপিএম৬ পদ্ধতিতে তা ৩২ দশমিক ৪৩৮ বিলিয়ন ডলার।
বৈদেশিক মুদ্রার মজুত একটি দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক দায় পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত মজুত প্রয়োজন।
তাই সাম্প্রতিক সময়ে মজুতের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে মজুত ধরে রাখতে রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয়, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

