আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের সুবিধা কমানোর প্রস্তাব এসেছে। অর্থবিলের মাধ্যমে আয়কর আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় পরিবর্তন এনে করদাতাদের জন্য কর রেয়াতের সীমা সংকুচিত করা হয়েছে। ফলে একই পরিমাণ কর সুবিধা পেতে আগের তুলনায় বেশি অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো করদাতার বিনিয়োগের ওপর কর রেয়াত হিসাব করা হবে মোট বিনিয়োগের ১০ শতাংশ ধরে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ কর রেয়াতের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। এর আগে এই সীমা ছিল ১০ লাখ টাকা।
বর্তমান নিয়মে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত নির্ধারণ করা হয় করযোগ্য আয়ের ৩ শতাংশ, মোট বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার মধ্যে যেটি কম, সেই পরিমাণে। তবে নতুন বাজেটে এই কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন করযোগ্য আয়ের ৩ শতাংশ, মোট বিনিয়োগের ১০ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ লাখ টাকার মধ্যে যেটি কম হবে, সেটিই কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হবে।
এই পরিবর্তনের ফলে বড় অঙ্কের করদাতারা সবচেয়ে বেশি প্রভাব অনুভব করবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, তাঁদের কর রেয়াতের সুযোগ আগের তুলনায় কমে যাবে।
বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে বোঝা যায়। যদি কোনো করদাতার বার্ষিক করযোগ্য আয় সাড়ে ৩ কোটি টাকা হয়, তাহলে তার ৩ শতাংশ দাঁড়ায় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি যদি ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে নতুন নিয়মে বিনিয়োগের ১০ শতাংশ হিসেবে কর রেয়াতের পরিমাণ হবে ১০ লাখ টাকা। কিন্তু আগের নিয়ম অনুযায়ী ১৫ শতাংশ হারে সেই রেয়াত দাঁড়াত ১৫ লাখ টাকা।
তবে বাস্তবে তিনি পুরো ১০ লাখ টাকার সুবিধাও পাবেন না। কারণ নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বোচ্চ কর রেয়াতের সীমা সাড়ে ৭ লাখ টাকা। ফলে আগামী অর্থবছর থেকে একই বিনিয়োগের বিপরীতে তিনি পাবেন সাড়ে ৭ লাখ টাকা কর রেয়াত, যেখানে বর্তমান নিয়মে পাওয়া যেত ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ কর সুবিধা কমে যাবে আড়াই লাখ টাকা।
কর পরামর্শ প্রতিষ্ঠান এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়ার মতে, নতুন ব্যবস্থায় বড় করদাতাদের আগের সমপরিমাণ কর সুবিধা পেতে হলে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। এতে তাঁদের বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের সুযোগ কমে যাবে।
কোন কোন খাতে বিনিয়োগে কর রেয়াত মিলবে:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের জন্য ৯টি খাত নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয় সঞ্চয়পত্র। তুলনামূলক নিরাপদ হওয়া এবং ব্যাংকের আমানতের চেয়ে কিছুটা বেশি মুনাফা পাওয়ার কারণে মধ্যবিত্ত করদাতাদের মধ্যে এ খাতের প্রতি আগ্রহ বেশি।
এ ছাড়া ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মাসিক সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগ করলেও কর রেয়াত পাওয়া যায়। ডিপিএসের ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমার ওপর এই সুবিধা প্রযোজ্য।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ করলেও কর রেয়াত পাওয়া যায়। সরকারি কর্মকর্তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাঁদা, স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তা ও কর্মকর্তার জমা, জীবনবিমার প্রিমিয়াম, কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠীবিমা তহবিলে চাঁদা, সুপার অ্যানুয়েশন ফান্ডে জমা এবং পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সিকিউরিটিজ ক্রয়ও কর রেয়াতের আওতায় রয়েছে।
নতুন বাজেটের প্রস্তাব কার্যকর হলে বিনিয়োগে কর সুবিধার পরিমাণ কমে যাবে। ফলে করদাতাদের এখন হিসাব করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন খাতে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি ও লাভের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ভারসাম্য পাওয়া সম্ভব।

