Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, জুলাই 27, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » জেন্ডার বাজেট: অগ্রগতি নাকি কেবল পরিসংখ্যানের খেলা?
    অর্থনীতি

    জেন্ডার বাজেট: অগ্রগতি নাকি কেবল পরিসংখ্যানের খেলা?

    নিউজ ডেস্কজুন 17, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    জাতীয় বাজেটকে সাধারণভাবে রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হলেও এর গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। একটি দেশের বাজেট আসলে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উন্নয়ন কৌশল এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। বাজেট বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সরকার কোন খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, কার উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং কোন জনগোষ্ঠী এখনও পিছিয়ে রয়েছে।

    বাংলাদেশের বাজেট নিয়ে আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় বরাদ্দ ও উদ্যোগ কতটা কার্যকর? ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটও সেই আলোচনাকে নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে এটি নারীর উন্নয়ন ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর কিছু ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও বিনিয়োগের পর্যাপ্ততা নিয়ে নতুন প্রশ্নও তৈরি করছে।

    সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রবৃদ্ধিনির্ভর বাজেট হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পরিচর্যা অর্থনীতি ঘিরেও নতুন কিছু পরিকল্পনার ঘোষণা এসেছে।

    তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবে নারীদের জীবনমান উন্নয়নে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, বরং পর্যাপ্ত অর্থায়ন, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    জেন্ডার বাজেট কী?

    জেন্ডার বাজেট বা জেন্ডার-সংবেদনশীল বাজেটিং এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সরকারি নীতি, কর্মসূচি ও ব্যয়ের প্রভাব নারী ও পুরুষের ওপর কীভাবে ভিন্নভাবে পড়ছে তা বিশ্লেষণ করা হয়। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদের ব্যবহার করে বিদ্যমান লিঙ্গ বৈষম্য কমানোর সুযোগও মূল্যায়ন করা হয়। এটি কোনো আলাদা নারী বাজেট নয় এবং শুধু নারীদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়ও নয়। বরং বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে বরাদ্দ, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের প্রতিটি ধাপে জেন্ডার সমতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার একটি কৌশলগত ব্যবস্থা।

    বাংলাদেশে জেন্ডার বাজেটিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯-১০ অর্থবছরে। সে সময় মাত্র চারটি মন্ত্রণালয়কে এই উদ্যোগের আওতায় আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে এর পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে ৬১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জেন্ডার বাজেটিং উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

    প্রতি অর্থবছরে জাতীয় বাজেটের সঙ্গে একটি পৃথক জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয়কে জেন্ডার-সম্পর্কিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ, সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কল্যাণ—এই চারটি প্রধান বিষয়ের আলোকে উপস্থাপন করা হয়।

    সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও অগ্রাধিকার কি পিছিয়ে পড়ছে?

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জেন্ডার-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩৪.৮ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ৩৩.৫ শতাংশ। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ৩৪.১ শতাংশ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৪.৪ শতাংশ। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে মনে হতে পারে, জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    তবে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন একটি চিত্র সামনে আসে। জেন্ডার-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের জিডিপি অনুপাত ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছালেও পরবর্তী বছরগুলোতে তা ক্রমাগত কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ হার দাঁড়ায় ৫.২ শতাংশে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪.৯ শতাংশে এবং চলতি অর্থবছরে আরও কমে ৪.৮ শতাংশে নেমে আসে।

    এর অর্থ, অর্থনীতির আকার যত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, নারী ও মেয়েদের জন্য বরাদ্দ সেই হারে বাড়ছে না। ফলে জাতীয় সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে জেন্ডার সমতার আপেক্ষিক গুরুত্ব কিছুটা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির, নারীর প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনক এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নারীদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

    সামাজিক সুরক্ষা নাকি প্রকৃত ক্ষমতায়ন?

    নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে চলতি বাজেটে ৮৩ হাজার ৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বিধবা ও স্বামী-নিগৃহীত নারীদের ভাতা কর্মসূচির পরিধি বাড়িয়ে ৩০ লাখ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বাড়িয়ে প্রায় ১৯ লাখে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের জন্য এসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে—এ বিষয়ে সংশয়ের সুযোগ নেই। তবে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়। এই সহায়তা কি নারীদের শুধু জীবিকা টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে, নাকি তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও বাড়াচ্ছে?

    দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার বড় একটি সীমাবদ্ধতা হলো, এটি এখনও প্রধানত ভাতা ও নগদ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। অথচ দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায়নের জন্য প্রয়োজন উৎপাদনশীল সম্পদে প্রবেশাধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন, বাজারের সঙ্গে সংযোগ এবং টেকসই আয়ের সুযোগ সৃষ্টি।

    অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়লেও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন:

    চলতি বাজেটে নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সমতা বৃদ্ধির জন্য বরাদ্দ বেড়ে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ১৪ হাজার ৭০১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ৭১০ কোটি টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকায় নারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    এসব পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এ খাতে বরাদ্দ ৩ হাজার ৩২১ কোটি টাকা থেকে কমে ২ হাজার ৯৭৪ কোটিতে নেমে এসেছে, যা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

    সাম্প্রতিক শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য বলছে, নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার দীর্ঘদিন ধরে স্থির রয়েছে। একই সঙ্গে অনেক নারী শ্রমবাজার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। বিপুলসংখ্যক নারী এখনও অনানুষ্ঠানিক খাতে কম মজুরি ও অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করা, সাশ্রয়ী শিশুযত্ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা জোরদার করার মতো কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান ছাড়া শুধু নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়িয়ে প্রকৃত অর্থে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

    শূন্য সহনশীলতার বাস্তবায়ন কতটা দৃশ্যমান?

    সরকার নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করলেও এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাজেটে নির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান বিনিয়োগ কতটা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ডিএনএ ল্যাব সম্প্রসারণ বা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল গঠনের মতো কিছু উদ্যোগের উল্লেখ থাকলেও, সহিংসতা প্রতিরোধ, নির্যাতন থেকে বেঁচে ফেরা নারীদের সেবা, আইনি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয়, পুনর্বাসন এবং মনোসামাজিক সহায়তার জন্য পৃথক ও স্পষ্ট বাজেট কাঠামোর চিত্র খুবই সীমিত।

    আরও উদ্বেগজনক দিক হলো ডিজিটাল নির্যাতন মোকাবিলার জন্য বরাদ্দ কমে যাওয়া। এ খাতে বরাদ্দ ২৫৭ কোটি টাকা থেকে কমে ১৬৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন হয়রানি, ট্রলিং এবং নারীবিদ্বেষী প্রচারণা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    তবে সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা যাচ্ছে নির্যাতনের মূল কারণ মোকাবিলায়। নারীর প্রতি সহিংসতা কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সামাজিক ও মানসিক কাঠামোর গভীরে থাকা পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা এবং বৈষম্যমূলক লিঙ্গ ধারণার ফল।

    কিন্তু বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুরুষ ও কিশোরদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন, ইতিবাচক পুরুষত্ব গড়ে তোলা, লিঙ্গ সমতা শিক্ষা এবং নারীবিদ্বেষী মানসিকতা পরিবর্তনের মতো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ অনুপস্থিত। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু প্রতিক্রিয়ামূলক সেবা দিয়ে সহিংসতা কমানো সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক রূপান্তরভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।

    বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে বেইজিং প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশন, সিডও, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (বিশেষ করে এসডিজি-৫) এবং নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতা নির্মূলের একাধিক বৈশ্বিক অঙ্গীকারে স্বাক্ষরকারী দেশ। এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য নারী নির্যাতন প্রতিরোধকে কেবল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং একটি বিস্তৃত সামাজিক পরিবর্তনের এজেন্ডা হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

    এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ খাতে জেন্ডার-সংশ্লিষ্ট ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। তবে এই ইতিবাচক চিত্রের মধ্যেও কিছু সূচকে ভিন্ন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষা খাতে জেন্ডার-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের অনুপাত ৫৪.৫ শতাংশ থেকে কমে ৫১.১ শতাংশে নেমেছে। একইভাবে স্বাস্থ্য খাতে এই হার ৪৬.৫ শতাংশ থেকে কমে ৪৩.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    বাংলাদেশে এখনো কিশোরীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় ঝরে পড়া, উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণে স্থবিরতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় নারীদের সীমিত অংশগ্রহণ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। পাশাপাশি কিশোরী স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজনীয়তা বাজেটে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছে।

    চারটি প্রধান থিমের মধ্যে নারীর কার্যকর সরকারি সেবাপ্রাপ্তির খাতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ কমে ৩৬ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা থেকে ৩৪ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়, কারণ নারীর নিরাপত্তা, বিচারপ্রাপ্তি, চলাচলের স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ভিত্তিই হলো কার্যকর সরকারি সেবা। অথচ বাস্তবতায় দেখা যায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে এ খাতে বরাদ্দ সীমিত বা প্রায় অনুপস্থিত।

    ব্যয়ের চেয়ে বড় লক্ষ্য—বৈষম্য দূরীকরণ:

    বাংলাদেশে জেন্ডার বাজেটিংয়ের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এটি এখনও অনেক ক্ষেত্রে কেবল একটি প্রশ্নে আটকে আছে—নারীদের জন্য কত অর্থ ব্যয় হলো। অথচ জেন্ডার-সংবেদনশীল বাজেটিংয়ের মূল উদ্দেশ্য শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়; বরং রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ কীভাবে লিঙ্গ বৈষম্যের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করছে, সেটি নিশ্চিত করা।

    বাল্যবিয়ে, পুত্রসন্তানের প্রতি অগ্রাধিকার, নারীর অবৈতনিক পরিচর্যা কাজের অতিরিক্ত চাপ, সম্পত্তিতে অসম অধিকার, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য এবং নারীর চলাচল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ—এসবই কাঠামোগত বৈষম্যের বাস্তব প্রকাশ। ফলে জেন্ডার বাজেটের মূল মূল্যায়ন হওয়া উচিত, এটি কি আইন, নীতি এবং সামাজিক রূপান্তরমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এসব বৈষম্যের মূল কারণ দূর করতে পারছে কি না।

    নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়লেও যদি নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত পরিচর্যা সেবা বা সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন নিশ্চিত না হয়, তাহলে সেই বিনিয়োগের সুফল সীমিত থেকে যায়। একইভাবে নারী নির্যাতন মোকাবিলায় শুধু আশ্রয়কেন্দ্র বা আইনি সহায়তা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন জেন্ডার সমতা শিক্ষা, পুরুষ ও কিশোরদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নারীবিদ্বেষী সামাজিক ধারণা পরিবর্তনে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।

    অতএব, জেন্ডার বাজেটের সাফল্য শুধু বরাদ্দের অঙ্কে নির্ধারিত নয়। এটি কতটা বৈষম্য কমাতে পারছে, নারীর ক্ষমতায়ন কতটা বাড়াচ্ছে এবং একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কতটা ভূমিকা রাখছে—তার ওপরই প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ভর করে।

    বাংলাদেশের জেন্ডার বাজেটিং এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কেবল বরাদ্দ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বাজেটকে বৈষম্য নিরসন ও সামাজিক রূপান্তরের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা। জেন্ডার বাজেটের কেন্দ্রে থাকা উচিত এই প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ কীভাবে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান অসম ক্ষমতার সম্পর্ক, বৈষম্যমূলক সামাজিক রীতি এবং কাঠামোগত বাধা পরিবর্তন করছে।

    প্রথমত, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়ার জন্য পৃথক বাজেট কোড চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শুধু প্রতিক্রিয়ামূলক সেবায় নয়, প্রতিরোধমূলক উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে পুরুষ ও কিশোরদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন, ইতিবাচক পুরুষত্ব গঠন এবং জেন্ডার সমতা বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি।

    দ্বিতীয়ত, জেন্ডার বাজেটকে ফলাফলভিত্তিক করতে হবে। অর্থ ব্যয়ের পরিমাণের পাশাপাশি কতটা সহিংসতা কমেছে, কতজন নারী নিরাপদ কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন বা সামাজিক মনোভাব কতটা পরিবর্তিত হয়েছে—এসব সূচকও নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

    তৃতীয়ত, জেন্ডার বাজেটকে সিডও, বেইজিং প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (বিশেষ করে এসডিজি-৫)-এর মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে আরও সুস্পষ্টভাবে সংযুক্ত করতে হবে।

    চতুর্থত, বয়স, দারিদ্র্য, প্রতিবন্ধিতা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ু ঝুঁকির ভিত্তিতে তথ্য বিশ্লেষণ আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে সবচেয়ে প্রান্তিক নারীদের প্রয়োজন নীতিনির্ধারণে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

    পঞ্চমত, জেন্ডার বাজেটকে শুধু একটি বার্ষিক প্রতিবেদন হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও জবাবদিহির একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক শাসন ব্যবস্থায় রূপ দিতে হবে। এতে সংসদ, স্থানীয় সরকার, নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের নিয়মিত অংশগ্রহণ ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

    সবশেষে, জেন্ডার বাজেটকে শুধু নারীদের জন্য ব্যয় হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে এটিকে একটি রূপান্তরমূলক বিনিয়োগ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। কারণ প্রকৃত জেন্ডার সমতা তখনই অর্জিত হবে, যখন বাজেট কেবল নারীর প্রয়োজন পূরণ করবে না; বরং সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যের ভিত্তি ভেঙে একটি সমতাভিত্তিক কাঠামো গড়ে তুলবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    কনটেইনার পরিবহনে এনসিটির আধিপত্য

    জুলাই 27, 2026
    অর্থনীতি

    ৪৭ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে এনবিআর

    জুলাই 27, 2026
    অর্থনীতি

    তেলের পর গ্যাস সংকট: জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি কোথায়?

    জুলাই 27, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.