২০২৫ সালে বাংলাদেশে নিট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা এফডিআই প্রবাহে সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে উঠে এসেছে নেদারল্যান্ডস। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছর দেশটি থেকে মোট ৫৪৪.৬১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে, যা মোট এফডিআই প্রবাহের ৩০.৭৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগের বড় অংশ গেছে খাদ্যপণ্য খাতে। এ খাতে দেশটি বিনিয়োগ করেছে ৪০৫.৪৬ মিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে এসেছে ৭২ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ ছিল চীন। দেশটি মোট ৩২১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২১৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে বিদ্যুৎ খাতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ও বহিঃঋণ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ শীর্ষ বিনিয়োগকারী দেশগুলোর অংশগ্রহণে মোট নিট এফডিআই প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে মোট নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ১.৭৭ বিলিয়ন ডলারে, যা ২০২৪ সালের ১.২৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি দুই প্রান্তিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এফডিআই প্রবাহ ধীর হয়ে যায়। গত তিন বছর ধরে এ প্রবাহ কমতির দিকে ছিল।
তবে ২০২৫ সালে মোট নিট প্রবাহ ৫০০.০২ মিলিয়ন ডলার বা ৩৯.৩৬ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণে ৩৩০.৩১ মিলিয়ন ডলারের বৃদ্ধি এবং পুনঃবিনিয়োগকৃত আয় ১৫৯.৭১ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি। নিট এফডিআই বলতে বোঝায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে দেশে আসা বৈদেশিক মূলধন থেকে একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রত্যাবাসন, ঋণ পরিশোধ বা বিনিয়োগ প্রত্যাহার বাদ দেওয়ার পর যে পরিমাণ অর্থ থাকে।
চীনের পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটি ১৯২.৪৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা মোট প্রবাহের ১০.৮৬ শতাংশ। এরপর দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এসেছে ১৭১.৭০ মিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্য থেকে ১৬৯.৪১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ।
তালিকায় আরও রয়েছে হংকং (১২২.৭৬ মিলিয়ন ডলার), ভারত (৮৮.১০ মিলিয়ন ডলার), শ্রীলঙ্কা (৬৭.৬৪ মিলিয়ন ডলার), মালয়েশিয়া (৫৬.২৪ মিলিয়ন ডলার) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (৩৫.০৯ মিলিয়ন ডলার)।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদ্যুৎ খাতেই সর্বোচ্চ ৪৪৮.১৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। শীর্ষ ১০ খাত মিলিয়ে মোট নিট প্রবাহের ৯৯.১২ শতাংশ গঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগ—উভয়ই অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ সঞ্চয়, ভোগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, আর বিদেশি বিনিয়োগ সঞ্চয় ঘাটতি কমাতে সহায়তা করে।

