জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন করে প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই নতুন ঋণ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তারা জানান, সদ্য গঠিত সরকার এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে চলমান ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি আর এগিয়ে না নেওয়ার। দীর্ঘ আলোচনার পরও বাকি কিস্তি ছাড় নিয়ে অগ্রগতি না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী মাসে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসবে। তারা বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা ও নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবে।
আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার নেতৃত্বে দলটি ১২ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করবে। এই সময় তারা অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি ও নতুন ঋণ কাঠামো নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন আলোচনা শুরুর আগে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী তিন বছরের জন্য যে সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে, তার একটি অগ্রাধিকার তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে।
একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সরকার মনে করছে আগের কর্মসূচিতে থাকা কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন করা এখন কঠিন। তাই সেগুলো বাদ দিয়ে নতুনভাবে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। তবে তিনি আরও বলেন, নতুন কর্মসূচিতেও আইএমএফ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো সম্পূর্ণ বাদ দিতে রাজি নাও হতে পারে। কিছু সংস্কার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুযোগ থাকতে পারে।
অন্য এক কর্মকর্তা উদাহরণ দিয়ে জানান, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, রাজস্ব বোর্ডের কাঠামোগত বিভাজন, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং বিনিময় হারকে আরও নমনীয় করার মতো বিষয়গুলো নতুন ঋণ কর্মসূচিতেও গুরুত্ব পাবে। এর আগে চলতি মাসে আইএমএফ এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি ও নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে সংস্থাটি সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা চলছে।
আইএমএফের মতে, নতুন কোনো ঋণ চুক্তি হলে তা অবশ্যই বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থপ্রবাহের চাহিদা, বাস্তবসম্মত সংস্কার পরিকল্পনা এবং নীতিগত অঙ্গীকারের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে। পাশাপাশি তা সংস্থাটির নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদনও পেতে হবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত কর্মসূচির পর থেকে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং রাজস্ব আহরণের ঘাটতি নতুন করে সংস্কার জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট দেখা দিলে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফ বাংলাদেশকে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন দেয়। এই ঋণ সাতটি কিস্তিতে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ছাড় হওয়ার কথা ছিল। পরে গত বছরের জুনে এতে আরও ৮০০ মিলিয়ন ডলার যুক্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ৩ দশমিক ৫৯৫ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে।

