দেশের অর্থনৈতিক চিত্র আরও নির্ভুলভাবে তুলে ধরতে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এবং ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) নির্ধারণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত কাঠামো প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ভবনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ব্যবহৃত সরকারি তথ্য-উপাত্তের মান উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির তথ্যকে আরও নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবসম্মত করে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, জিডিপি ও মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়, এগুলো দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ফলে এসব তথ্যে কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা ভুল থাকলে তা উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জোনায়েদ সাকি জানান, অতীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অমিল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর ফলে জনগণের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে আগের বছরগুলোর তথ্য-উপাত্ত বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তথ্যের বিকৃতি বা কারচুপির কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য সঠিক ও বাস্তবভিত্তিক তথ্য প্রকাশের বিকল্প নেই। এ কারণেই পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণ পদ্ধতি আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

