গত সপ্তাহজুড়ে দেশের অর্থনীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে এসেছে। বাজেট প্রস্তাব, ব্যাংক খাতে অস্থিরতা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, রাজস্ব ঝুঁকি সতর্কতা এবং বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়ন—সব মিলিয়ে অর্থনীতির চিত্র ছিল চাপ ও পরিবর্তনের মিশ্রণ।
নিচে গত সপ্তাহের প্রধান ঘটনাগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
লভ্যাংশ আয়ের কর সুবিধা কমানোর প্রস্তাব:
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে লভ্যাংশ আয়ের কর সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত কর রেয়াত কমানোর প্রস্তাব এবং করপোরেট লভ্যাংশে সাধারণ হারে কর আরোপের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে অনীহা তৈরি করতে পারে এবং বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
ইসলামী ব্যাংকে তারল্য সংকট ও প্রশাসনিক পরিবর্তন:
নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে চলমান প্রতিবাদের পর ইসলামী ব্যাংক মারাত্মক তারল্য সংকটে পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংকটির চলতি হিসাবে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় এবং বিশেষ সহায়তা হিসেবে দুই হাজার পাঁচশ কোটি টাকা প্রদান করে।
পরিবার কার্ড কর্মসূচি নিয়ে মূল্যায়নের ঘোষণা:
পরিবার কার্ড কর্মসূচির প্রভাব নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উদ্দেশ্য হলো, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবভাবে সুবিধাভোগীদের জীবনমান উন্নত করছে কি না তা নিশ্চিত করা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এই খাতে এক হাজার চারশ পঞ্চাশ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় একচল্লিশ লাখ পরিবারকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
রাজস্ব লক্ষ্য নিয়ে ঝুঁকির সতর্কতা:
ফিচ রেটিংস সতর্ক করেছে যে নতুন সরকারের উচ্চাভিলাষী বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, কর সংগ্রহে চলমান সীমাবদ্ধতা এই চাপ আরও বাড়াতে পারে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে, যা সরকারের নির্ধারিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্যের তুলনায় অনেক কম।
মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত:
সরকার মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও আনোয়ারা এলাকায় দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রপ্তানি পণ্যের সরবরাহ সময় কমানো, শুল্কমুক্ত গুদাম সুবিধা বৃদ্ধি এবং দেশকে আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

