রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের মিলনায়তনে সোমবার অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজার বা শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশা করছেন।
তিনি বলেন, দেশে কার্যত কোনো শেয়ারবাজার নেই, এটি ভেঙে পড়া অবস্থায় ছিল। তবে এখন সেই ধ্বংসাবশেষ থেকে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ইতিমধ্যে একজন চেয়ারম্যান এবং তিনজন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব নিয়োগ কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় হয়নি। বরং নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা শেয়ারবাজারের ভেতর ও বাইরের পরিস্থিতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজারে প্রয়োজনীয় সংস্কার একসঙ্গে শুরু করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগকারীদের প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা। তাঁর মতে, আস্থার অভাবে বর্তমানে ভালো কোম্পানিগুলো বাজারে আসছে না, যা বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, সংস্কার কার্যক্রমের কারণে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বড় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জে পি মরগ্যান–এর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার কথা উল্লেখ করেন এবং জানান, তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, “আগামী দুই বছরের মধ্যে শেয়ারবাজার আবার শক্ত অবস্থানে ফিরবে। এতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।”
সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক–এর সহযোগিতায় গভর্ন্যান্স স্টাডিজ কেন্দ্র। প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমান।
আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে সরকার বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর মতে, দেশে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যা কমিয়ে আনা জরুরি। তিনি আরও বলেন, লক্ষ্য হলো এমন পরিবেশ তৈরি করা যেখানে মানুষকে হয়রানির মুখে পড়তে না হয় এবং কারও পেছনে ঘুরতে না হয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংস্কার বাস্তবায়নে বাধা আসতে পারে। কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে তাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী সিমিন রহমান, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার মামুন রশিদ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মোজিবুল হক, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মোহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু আহমেদসহ অনেকে।

