বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদার চীন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার বিদেশ সফরে বের হয়েছেন। মালয়েশিয়া সফর সম্পন্ন করে তিনি এখন চীনের পথে।
মালয়েশিয়ায় সফর শেষে গতকাল সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীরা চীনের উদ্দেশ্যে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
এই সফর ঘিরে আশায় বুক বাঁধছেন ব্যবসায়ীরাও। পোশাক শিল্পে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রধানমন্ত্রীর সফর থেকে এ শিল্পের ব্যবসায়ীরা কী ভাবছেন তা নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর কীভাবে দেখছেন?
বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদি শিল্প ও বিনিয়োগ সহযোগিতার ভিত্তিতে আরও গভীর হওয়া জরুরি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে আমরা সেই নতুন অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখি।
এই সফর ঘিরে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
বেসরকারি খাতের দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের প্রধান প্রত্যাশা হলো চীন থেকে বাংলাদেশে আরও ব্যাপক ও বৈচিত্র্যময় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসা। বিশেষ করে জ্বালানি, ভারী শিল্প, লাইট ম্যানুফ্যাকচারিং, টেক্সটাইল ও উচ্চমূল্য সংযোজনকারী রপ্তানিমুখী খাতে চীনা বিনিয়োগ বাড়লে বাংলাদেশের শিল্পভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে।
চীনের কোন বিশেষ সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন বলে মনে করেন?
বর্তমানে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্পে তুলানির্ভর (কটনভিত্তিক) উৎপাদন কাঠামো থেকে ধীরে ধীরে ম্যান-মেইড ফাইবার (এমএমএফ) এবং উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই রূপান্তর সফল করতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি, কারিগরি জ্ঞান, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা এবং গবেষণা ও উন্নয়নে কার্যকর সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা আশা করি, চীনের সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর (টেকনোলজি ট্রান্সফার), যৌথ গবেষণা উদ্যোগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। এটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে মনে করি।
বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ নিয়ে কী বলবেন?
আমরা প্রত্যাশা করি, চীনের যেসব শিল্প বিভিন্ন কারণে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া বা অন্য দেশে স্থানান্তরিত হচ্ছে, তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক শ্রমমূল্য, স্থিতিশীল রপ্তানি খাত, দ্রুত বর্ধনশীল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং ভৌগোলিক অবস্থান চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি গন্তব্য তৈরি করেছে। যদি নীতিগত সহায়তা, সহজ ব্যবসা পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
অবকাঠামো উন্নয়নেও চীনের অব্যাহত সহযোগিতা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখি। বিশেষ করে সড়ক, রেল, বন্দর, জ্বালানি ও লজিস্টিকস খাতে টেকসই বিনিয়োগ দেশের ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করবে, সরবরাহ ব্যয় কমাবে এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াবে।
সব মিলিয়ে আমরা আশা করি, এই সফর শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য বা সমঝোতা স্মারকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি হবে একটি বাস্তবভিত্তিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের সূচনা, যেখানে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, শিল্প পুনর্বিন্যাস ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। সূত্র: জাগো নিউজ

