দেশের স্বল্প আয়ের মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১৬ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন কর্মসূচি অনুমোদন করেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় এই অর্থায়নের পরিমাণ ৪৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি।
গতকাল বুধবার রাজধানীর পিকেএসএফ ভবন-এ অনুষ্ঠিত সংস্থাটির সাধারণ পর্ষদ সভায় নতুন অর্থবছরের বাজেট ও বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়।
সভা সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অর্থায়নের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়ন তহবিলের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫ হাজার কোটি টাকা বিতরণের সুযোগ তৈরি হবে।
পিকেএসএফ জানিয়েছে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রচলিত ঋণ সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন, ঋণভিত্তিক অর্থায়ন ও অংশীদারিভিত্তিক অর্থায়নের সমন্বয়ে ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্সিং কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
এ ছাড়া সৃজনশীল অর্থনীতি, জলবায়ু অভিযোজনভিত্তিক উদ্যোগ এবং টেকসই উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। নতুন অর্থবছরে শুধু অর্থায়ন নয়, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংস্থাটির আশা, এসব পদক্ষেপ দেশের উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একই দিনে পিকেএসএফের পরিচালনা পর্ষদের সভাও অনুষ্ঠিত হয়। পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, পর্ষদ সদস্য ড. সহিদ আকতার হোসাইন, নূরুন নাহার, ফারজানা চৌধুরী এবং ড. মো. তৌফিকুল ইসলাম অংশ নেন।

