বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৩৯ কোটি ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকার পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট অনুমোদিত হয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০তম সিন্ডিকেট সভার ২৯তম বাজেট অধিবেশনে এ বাজেট পাস হয়।
এবারের বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি ৪৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দিয়ে এই ঘাটতি সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান রতন।
অনুমোদিত বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৬৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ১৩৬ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে ১৬৩ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এবারের বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আগামীর বাংলাদেশ যেন হয় সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’। চিকিৎসাসেবা, গবেষণা, আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এবারের বাজেটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধের বরাদ্দ বৃদ্ধি। এ খাতে বরাদ্দ ১২ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি টাকা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সব স্যালাইন ও মেরোপেনেম বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। ভর্তি রোগীদের শতভাগকে স্যালাইন ও মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য শল্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বেশি। ক্যানসার চিকিৎসা জোরদারে অনকোলজি বিভাগে দীর্ঘদিন অচল থাকা একটি লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর পুনরায় চালুর পাশাপাশি আরও দুটি আধুনিক লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর কেনার জন্য ৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রোগীসেবা উন্নয়নে মেডিসিন ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ খাতে অতিরিক্ত ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সংশোধিত বাজেটে আরও অর্থ যুক্ত করা হবে।
গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২২ কোটি টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে ৬ কোটি ৫ লাখ টাকাসহ মোট ২৮ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা বেশি। ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড চালুর জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে বই ও সাময়িকী কেনায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, মুদ্রণ ও বাঁধাই খাতে ২ কোটি টাকা এবং প্রশিক্ষণ খাতে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পুরোনো ভবন সংস্কার, প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও রোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে পূর্ত ও সংরক্ষণ খাতে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। রোগীদের পুষ্টি উন্নয়নে পথ্য খাতে বরাদ্দ ১৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮ কোটি টাকা করা হয়েছে।
রেসিডেন্সি, নন-রেসিডেন্সি ও নার্সিং শিক্ষার্থীদের বৃত্তি খাতে বরাদ্দ ২১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা এবং ই-লগবুক চালুর জন্য আলাদা ১ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার শফিকুল হাসান রতন জানান, গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে ১৩৫ কোটি টাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে দেওয়া হয়েছিল। এ বছর তা বেড়ে ১৬৫ কোটি টাকা হয়েছে।

