Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, জুলাই 22, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » এনবিআরের নেতৃত্বে কর ক্যাডার—সফলতার চাবিকাঠি কি এবার মিলবে?
    অর্থনীতি

    এনবিআরের নেতৃত্বে কর ক্যাডার—সফলতার চাবিকাঠি কি এবার মিলবে?

    মনিরুজ্জামানUpdated:জুলাই 7, 2026জুলাই 7, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো কার্যকর রাজস্ব ব্যবস্থা। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি—সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় শক্তিশালী রাজস্ব আহরণের। তাই একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা অনেকটাই নির্ভর করে তার নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহের দক্ষতার ওপর।

    বাংলাদেশে এই দায়িত্ব পালন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কর ও শুল্ক আদায়ের পাশাপাশি করনীতি প্রণয়ন, করদাতা সেবা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে এনবিআরের চেয়ারম্যান পদে কে দায়িত্ব পালন করবেন, তা কেবল একটি প্রশাসনিক নিয়োগের বিষয় নয়; বরং দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার সঙ্গেও এটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

    এমন প্রেক্ষাপটে কর ক্যাডারের কর্মকর্তা আহসান হাবিবকে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া রাজস্ব প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এনবিআরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি গত ৩০ জুন ২০২৬ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    এর আগে আহসান হাবিব এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং কর ব্যবস্থাপনায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে তার এ দায়িত্বপ্রাপ্তি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    বিশেষ গুরুত্বের বিষয় হলো, ১৯৭২ সালে এনবিআর প্রতিষ্ঠার পর ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম সংস্থাটির নিজস্ব কর প্রশাসন থেকে উঠে আসা একজন কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্ত রাজস্ব প্রশাসনে বিশেষায়িত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে এটি কর ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিরও প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    আহসান হাবিব ১৫তম বিসিএস (কর) ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তিনি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কর ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

    প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কর অঞ্চল, কর আপিল অঞ্চল, কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চল, বিসিএস কর একাডেমি, কর পরিদর্শন পরিদপ্তর এবং সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)—এসব প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি রাজস্ব প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। মাঠপর্যায়ের কর ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণ, গোয়েন্দা অনুসন্ধান এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই তার কাজের অভিজ্ঞতা তাকে একজন পরিপূর্ণ রাজস্ব প্রশাসক হিসেবে গড়ে তুলেছে।

    তার কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়গুলোর একটি হলো সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন। ওই সময়ে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের অনুসন্ধানে সিআইসির বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি নেতৃত্ব দেন। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিদেশে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, সম্পদের অবস্থান ও প্রকৃতি যাচাই, স্থিরচিত্র ও ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ সংরক্ষণ এবং সেসব তথ্য সরকারের কাছে উপস্থাপনের কাজ পরিচালিত হয়।

    এসব উদ্যোগ বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অর্থ পাচার, গোপন সম্পদ শনাক্তকরণ এবং জটিল আর্থিক অনুসন্ধানে তার এই বাস্তব অভিজ্ঞতা এনবিআরের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনে কার্যকর সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ কারণে তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়াকে অনেকেই প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।

    তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—এনবিআরের চেয়ারম্যান হিসেবে কর ক্যাডারের কর্মকর্তাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন? এর উত্তর খুঁজতে হলে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব ও কাঠামো বোঝা জরুরি। এনবিআরের অধীনে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং কাস্টমস—এই তিনটি প্রধান শাখা কাজ করে। কাস্টমস মূলত আমদানি-রপ্তানি, শুল্কায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে।

    অন্যদিকে ভ্যাট শাখা উৎপাদন, সরবরাহ, বিক্রয় ও ভোগভিত্তিক কর ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে। প্রতিটি শাখাই জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এনবিআরের সামগ্রিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আয়কর প্রশাসনের অভিজ্ঞতা বিশেষ গুরুত্ব পায়, কারণ এই শাখা করদাতার সামগ্রিক আর্থিক কার্যক্রম ও আয় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

    আয়কর প্রশাসনের দায়িত্ব অন্য অনেক কর ব্যবস্থার তুলনায় বিস্তৃত। একজন আয়কর কর্মকর্তা শুধু একটি লেনদেন বা নির্দিষ্ট কোনো পণ্যের কর নির্ধারণ করেন না; বরং একজন করদাতার পুরো অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করেন। বার্ষিক আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন, ব্যবসার মুনাফা, বিনিয়োগ, উৎসে কর, অগ্রিম কর এবং সংশ্লিষ্ট আইনের প্রয়োগ—সবকিছু সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করতে হয় তাকে। ফলে করদাতার আর্থিক অবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তার সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    এই অভিজ্ঞতার কারণে আয়কর প্রশাসনের কর্মকর্তারা অর্থনীতির বিভিন্ন খাত সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করেন। কোন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারিত হচ্ছে, কোথায় কর ফাঁকির ঝুঁকি বেশি, কোন বিধান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় কিংবা কোথায় করদাতারা অপ্রয়োজনীয় জটিলতার মুখে পড়ছেন—এসব বিষয়ে তারা সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। রাজস্ব প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নীতিনির্ধারণে এই বাস্তব জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    অন্যদিকে সাধারণ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতির সমন্বয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তবে কর নির্ধারণ, করদাতার আর্থিক হিসাব যাচাই, প্রকৃত মুনাফা মূল্যায়ন, সম্পদ ও দায় বিশ্লেষণ, কর ফেরত (রিফান্ড), অডিট নির্বাচন, উৎসে করের প্রভাব এবং মাঠপর্যায়ে করদাতাদের বাস্তব সমস্যার মতো বিষয়গুলোতে কর ক্যাডারের কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় ধরে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পান। সে কারণে এনবিআরের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে এ ধরনের অভিজ্ঞতা কার্যকর বলে মনে করা হয়।

    এ আলোচনা কোনো ক্যাডারের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর উদ্দেশ্যে নয়; বরং দায়িত্বের প্রকৃতিগত পার্থক্য তুলে ধরার জন্য। বর্তমান সময়ে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে। যেমন স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তির নেতৃত্ব এবং বিচারব্যবস্থায় আইনজ্ঞের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি রাজস্ব প্রশাসনের নেতৃত্বেও কর আইন, করদাতা ব্যবস্থাপনা, হিসাব বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থাকা একজন কর্মকর্তার উপস্থিতি যৌক্তিক বলে মনে করা হয়। সেই বিবেচনায় এনবিআরের চেয়ারম্যান পদে অভিজ্ঞ, দক্ষ ও সৎ কর ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত রয়েছে।

    এ বিষয়টি নতুন নয়; কর প্রশাসনের কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০১৪ সালের ২০ মে অনুষ্ঠিত ওই অর্থবছরের বাজেটের কর প্রস্তাববিষয়ক এক সেমিনারে উপস্থাপিত একটি মূল প্রবন্ধেও এ সুপারিশ স্থান পেয়েছিল। ৩৭টি অনুচ্ছেদ ও ৩৯ পৃষ্ঠার ওই প্রবন্ধে ‘কর প্রশাসনের কাঠামোগত সংস্কারমূলক পরামর্শ’ শিরোনামের অধীনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগসংক্রান্ত পৃথক আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট—এই তিনটি বিশেষায়িত শাখার সমন্বয়ে পরিচালিত এনবিআরের নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যিনি রাজস্ব প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ।

    এই যুক্তির ভিত্তি ছিল একটি সহজ নীতি—যে ব্যক্তি যে ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ, নেতৃত্বও তার হাতেই থাকা উচিত। যেমন একজন আইনজীবীর কাছে চিকিৎসার দায়িত্ব প্রত্যাশা করা যায় না, আবার একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে বিচারকের ভূমিকা আশা করাও বাস্তবসম্মত নয়। একইভাবে রাজস্ব প্রশাসনের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। কর ক্যাডার থেকে এনবিআরের চেয়ারম্যান নিয়োগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে সেই দীর্ঘদিনের আলোচিত দাবির বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে এনবিআরের চেয়ারম্যান পদে অধিকাংশ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন সাধারণ প্রশাসনিক ধারার কর্মকর্তারা। যদিও তাদের মধ্যে কেউ কেউ কর্মজীবনের শুরুতে কর ক্যাডারে ছিলেন, তবে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তারা সচিব পর্যায়ের প্রশাসনিক পদ থেকেই এনবিআরে এসেছেন। ফলে বোর্ডের নিজস্ব কাঠামোর ভেতর থেকে, বিশেষ করে সদস্য পর্যায় থেকে সরাসরি চেয়ারম্যান পদে উন্নীত হওয়ার নজির এতদিন তৈরি হয়নি। সাম্প্রতিক নিয়োগ সেই দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে মত রয়েছে।

    এ সিদ্ধান্ত কর প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মাঠপর্যায়ে কর নির্ধারণ, রাজস্ব সংগ্রহ এবং করদাতাদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করা কর্মকর্তাদের অনেকের মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রত্যাশা ছিল—তাদের জন্যও কি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে? আহসান হাবিবের দায়িত্বপ্রাপ্তি সেই প্রত্যাশাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এর ফলে পেশাগত স্বীকৃতি, কর্মপ্রেরণা এবং দায়িত্ববোধ আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তবে এই নিয়োগকে কেবল প্রতীকী সাফল্য হিসেবে দেখলে হবে না। বরং এটিকে রাজস্ব প্রশাসনে কার্যকর সংস্কারের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো প্রয়োজন। করদাতার হয়রানি কমানো, কর ফেরত (রিফান্ড) প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করা, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট ব্যবস্থা চালু করা, উৎসে কর ও অগ্রিম করের বিধানকে ব্যবসার প্রকৃত মুনাফার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, আপিল নিষ্পত্তির গতি বাড়ানো এবং তথ্যনির্ভর ও করদাতাবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি অবশ্যই প্রয়োজন; তবে সেই প্রক্রিয়া হতে হবে ন্যায়সংগত ও ভারসাম্যপূর্ণ। সৎ করদাতাদের অযথা হয়রানি যেমন কাঙ্ক্ষিত নয়, তেমনি কর ফাঁকির সুযোগ রেখে রাজস্ব ব্যবস্থা শক্তিশালী করাও সম্ভব নয়। এ দুই দিকের ভারসাম্য রক্ষায় অভিজ্ঞ আয়কর প্রশাসকের বাস্তব জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে এনবিআরের নেতৃত্বে কর প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তার উপস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে আরও বাস্তবমুখী, জবাবদিহিমূলক এবং ফলপ্রসূ করতে সহায়ক হতে পারে।

    সব দিক বিবেচনায় কর ক্যাডার থেকে এনবিআরের চেয়ারম্যান নিয়োগকে বাংলাদেশের রাজস্ব প্রশাসনের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে এনেছে।

    ভবিষ্যতেও এনবিআরের মতো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ, দক্ষ, সৎ ও নীতিনিষ্ঠ কর ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলে রাজস্ব আহরণ আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি করদাতার আস্থা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতাও শক্তিশালী হতে পারে। তবে নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে তার নেওয়া উদ্যোগ এবং সেসব উদ্যোগের বাস্তব প্রভাবের ওপর।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    অর্থনৈতিক গণতন্ত্র ছাড়া কি পূর্ণ গণতন্ত্র সম্ভব?

    জুলাই 21, 2026
    মতামত

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতকে কীভাবে অন্তহীন যুদ্ধে পরিণত হওয়া থেকে আটকানো যায়?

    জুলাই 21, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কেন আরোপ করা হয়েছে, কবে মিলবে অব্যাহতি?

    জুলাই 21, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.