চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের শুরুতেই দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে প্রবাসী আয়। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ৬৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৫৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যেখানে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ধরা হয়েছে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসের প্রথম ছয় দিনের এই প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ৬ জুলাই একদিনেই দেশে এসেছে ১ হাজার ৫৮৩ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা সমপরিমাণ রেমিট্যান্স। একদিনে এত বড় অঙ্কের প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তুলনামূলক পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৪২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। সেই হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ৬২ দশমিক ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এত বড় প্রবৃদ্ধি শুধু সংখ্যাগত দিক থেকেই নয়, অর্থনীতির গতিপ্রকৃতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা এবং টাকার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সে এমন প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সহজলভ্যতা এবং প্রবাসীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বাড়া এবং তাদের আয়ের ধারাবাহিকতাও এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
অর্থবছরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ের এই শক্তিশালী ধারা ধরে রাখা গেলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলা, রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

