বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছে সরকার। এই আবেদনের মূল উদ্দেশ্য হলো এলডিসি হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিতে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা এবং সহজ শর্তে বৈদেশিক ঋণসহ বিভিন্ন সহায়তা আরও কিছুদিন ধরে রাখা।
এলডিসি মর্যাদার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় কিছু বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণ ও অন্যান্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগও বিদ্যমান। এসব সুবিধা অব্যাহত রাখতেই উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, ২০১৮ সালে উত্তরণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় হাতে থাকলেও সরকার ও ব্যবসায়ী মহল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি যথাযথভাবে নিতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি এসে আবারও সময় বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের অধীন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) ২০১৮ সালে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি মানদণ্ডই দেশটি পূরণ করেছে। সেই বছরের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
এরপর ছয় বছর ধরে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটি বাংলাদেশের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। এরপর ২০২৭ সাল থেকে উন্নয়নশীল দেশের জন্য প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক বিধি ও শর্ত কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তবে সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ২০২৪ সালের পরিবর্তে ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের এলডিসি মর্যাদা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এখন সেই সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর জন্য নতুন করে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে। ওই বৈঠকেই বাংলাদেশের আবেদনের বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছিল গভীর সংশয়। ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং পরবর্তীকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে “তলাবিহীন আন্তর্জাতিক ভিক্ষার ঝুলি” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সে সময়ের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় অনেকেই মনে করেন, এমন মন্তব্যের পেছনে দেশের ভয়াবহ সংকটই ছিল প্রধান কারণ।
স্বাধীনতার শুরুর দিকে দেশের প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্যচাহিদা ছিল বছরে প্রায় দেড় কোটি টন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টন। ফলে প্রায় ৪০ লাখ টন খাদ্যশস্যের ঘাটতি তৈরি হতো, যা বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর করেই পূরণ করতে হতো। সে সময় প্রয়োজনীয় খাদ্য আমদানির মতো বৈদেশিক মুদ্রাও বাংলাদেশের হাতে ছিল না। ১৯৭২ সালে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি ছিল।
অর্থনীতির আরেকটি বড় দুর্বলতা ছিল রপ্তানি খাত। প্রধান রপ্তানি পণ্য পাট ও পাটজাত সামগ্রীর আন্তর্জাতিক বাজার তখন ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছিল। ফলে সীমিত রপ্তানি আয় দিয়ে আমদানি ব্যয়ের ৩০ শতাংশও বহন করা সম্ভব হতো না।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ১৯৭৩ সালের বৈশ্বিক তেল সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলে। একই সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী—যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং অন্যান্য দাতা সংস্থার কাছ থেকে প্রত্যাশিত মাত্রার সহযোগিতা পায়নি বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ১৯৭৩ সাল থেকে দেশে দুর্নীতি ও পুঁজি পাচারের প্রবণতা বাড়তে থাকে। সমালোচকদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতিতে জড়িত নেতা-কর্মী, শ্রমিক নেতা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
১৯৭৪ সালে দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এ দুর্ভিক্ষের জন্য মার্কিন ষড়যন্ত্রকে দায়ী করা হয় বলে বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। ওই দুর্ভিক্ষে প্রায় এক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এরই মধ্যে জাতিসংঘ ১৯৭১ সালে দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল ও উন্নত—এই তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করার কাঠামো চালু করে। জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার পর ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহায়তা অর্জন করা।
তৎকালীন বাস্তবতায় বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যার কারণে এলডিসি তালিকাভুক্তির বিষয়টি ব্যতিক্রমী হিসেবে বিবেচিত হলেও দেশের অর্থনৈতিক প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় উল্লেখ রয়েছে।
একই সময়ে বিশ্বের কয়েকটি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশ—যেমন ঘানা, ভিয়েতনাম ও জিম্বাবুয়ে—স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সে পথে হাঁটেনি বলেও আলোচনায় উল্লেখ করা হয়। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, স্বাধীনতার পর সৃষ্ট গভীর অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে বাংলাদেশ এক দশকের মধ্যেই এই পরিচয় থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা বজায় থাকায় বাংলাদেশ একদিকে যেমন বিভিন্ন ধরনের অনুদান, ত্রাণ ও স্বল্পসুদের ঋণ পেত, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বা বিশেষ বাণিজ্য সুবিধাও ভোগ করত। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এলডিসি থেকে উত্তরণকে সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেই অনেকে মনে করেন।
জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের বৈদেশিক সহায়তার প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ প্রফেসর রেহমান সোবহানের গ্রন্থ The Crisis of External Dependence-এ প্রকাশিত তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে বৈদেশিক অনুদান ও ঋণের পরিমাণ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছিল। বইটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই ছিল বৈদেশিক সহায়তার ওপর সর্বোচ্চ নির্ভরতার সময়।
পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে রাষ্ট্র পরিচালনা ও দুর্নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচনা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, সে সময় থেকেই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়।
দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়েও একসময় ব্যাপক সমালোচনা হয়। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়। এর মধ্যে ২০০১ সালের মূল্যায়নটি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের এবং ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মূল্যায়ন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের। ফলে দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠে এসেছে। দুর্নীতি, পুঁজি লুণ্ঠন এবং পুঁজি পাচার এখনও বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে গত এক দশকে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনও এসেছে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর ২০১৮ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ নির্ধারিত উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের তিনটি শর্ত পূরণ করে। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে উন্নতির ধারাও অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন নাগাদ বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ২ হাজার ৯১০ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, এই সূচকে বাংলাদেশ পাকিস্তানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে এবং ভারতের চেয়েও বেশি অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এদিকে বৈদেশিক অনুদান ও ঋণের ওপর নির্ভরতাও আগের তুলনায় অনেক কমেছে। বর্তমানে এ ধরনের সহায়তার পরিমাণ দেশের মোট জিডিপির এক শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহের কারণে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় বহনের সক্ষমতাও বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রতিফলিত হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এসব অগ্রগতির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন নিশ্চিত করার মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতির পাশাপাশি বাংলাদেশের সামনে এখনও বেশ কয়েকটি মৌলিক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতি, জ্বালানি সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং সুশাসনের ঘাটতি অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতিকে প্রভাবিত করছে।
তাদের পর্যবেক্ষণে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ, পুঁজি পাচার এবং আর্থিক খাতের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা তুলে ধরছেন।
টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আয় বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে কার্যকর পুনর্বণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন জোরদার না হলে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছানো কঠিন হবে।
এ প্রসঙ্গে তারা চারটি গোষ্ঠীকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে উল্লেখ করেন। এগুলো হলো—দুর্নীতিতে জড়িত রাজনীতিবিদ ও আমলা, অতিরিক্ত মুনাফাকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার, ঋণখেলাপি এবং বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচারকারীরা। তাদের মতে, এসব গোষ্ঠীর প্রভাব কমাতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হবে।
অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের ফলে স্বল্পোন্নত দেশের জন্য বিদ্যমান কিছু বিশেষ বাণিজ্য ও আর্থিক সুবিধা কমে যেতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশের মতে, যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের উদাহরণ প্রায়ই সামনে আনা হয়। ১৯৭৫ সালে যুদ্ধ শেষে দেশটি পুনর্গঠনের কাজ শুরু করে। সে সময় ভিয়েতনামের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের চেয়েও কম ছিল বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দেশটি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভুক্ত না হয়ে নিজস্ব অর্থনৈতিক সংস্কারের পথ বেছে নেয়।
১৯৮৬ সালে ‘দোই মোই’ (Doi Moi) নামে পরিচিত অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি চালুর পর ভিয়েতনাম দ্রুত শিল্পায়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ৫ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি এবং বার্ষিক রপ্তানি আয় ৪০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে দেশটি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে।
এ প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ প্রশ্ন তুলছেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সময় বারবার পিছিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশও কি ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে না?

