চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ক্ষয়ক্ষতির দায় আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)।
শুক্রবার সিপিএর পরিচালক (ট্রাফিক) গোলাম মোহাম্মদ সারওয়ারুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৫ জুলাই থেকে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় রাখা কোনো পণ্য, কনটেইনার বা মালামালের ক্ষতির জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই ক্ষতি ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ (Act of God) হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই চট্টগ্রাম বন্দর (কার্গো ও কনটেইনার) পরিচালনা বিধিমালা, ২০০১-এর ১৯৯(১৪) ধারা এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের কোনো দায় সিপিএর নেই।
তবে এমন ভাষায় দায় অস্বীকারের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আমদানিকারক, শিপিং এজেন্ট ও ব্যবসায়ী নেতারা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এটি দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা এবং ব্যবসায়ীদের প্রতি অমার্জিত আচরণ।
৫ থেকে ৮ জুলাইয়ের ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন কনটেইনার ইয়ার্ড পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক কনটেইনারের নিচ দিয়ে পানি ঢুকে আমদানিকৃত পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই ধরনের জলাবদ্ধতা বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোগুলোতেও দেখা যায়।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় থাকা পণ্যের নিরাপত্তার দায়িত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষের। তাই ক্ষয়ক্ষতির দায়ও তাদের এড়ানো উচিত নয়।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের অজুহাতে দায় এড়ানো যায় না। বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও পণ্য সুরক্ষায় পর্যাপ্ত শেড নির্মাণ বা কার্যকর দুর্যোগ প্রস্তুতি গড়ে তুলতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে সিপিএর ভারপ্রাপ্ত সচিব সৈয়দ রিফায়েত হামিম বলেন, আইন অনুযায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য বন্দর দায়ী নয়। অতীতেও এ ধরনের ঘটনায় একই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। তিনি জানান, কনটেইনারের ভেতরে কী পণ্য রয়েছে, তা জানার এখতিয়ার সিপিএর নেই। এছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো আমদানিকারক বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণের আবেদনও করেনি।

