অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন কর্মসূচিতে অংশ নেবে সরকার। জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো শর্ত সরকার গ্রহণ করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন।
আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দেশের অর্থনীতি, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগের সরকারের সময় আইএমএফের সঙ্গে যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল, তাতে এমন কিছু শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের জন্য গ্রহণযোগ্য ছিল না। সে কারণেই বর্তমান সরকার ওই কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য শুধু বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা। তিনি বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হলো জনগণের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই বিবেচনায় আইএমএফের সঙ্গে এমন একটি নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। তিনি আরও বলেন, সরকার যে কোনো আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিলেও সেখানে দেশের জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত থাকবে।
দেশকে আরও আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান ভিসানীতিতে পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিদ্যমান ভিসা ব্যবস্থা যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। এ জন্য ভিসানীতি আরও সহজ ও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পরিবর্তনের ফলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও অনুকূল হবে এবং বিশ্বব্যাপী দেশের প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়ক। জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের রাজনীতিতে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাঁর মৃত্যু রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

