টানা দুই মাস নেতিবাচক অবস্থানে থাকার পর জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে আবারও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দশম মাস এপ্রিলে নতুন বিক্রি আগের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় নিট বিক্রি ইতিবাচক হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, এপ্রিলে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ২৬০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এ মাসে সরকার আগের বিনিয়োগকারীদের আসল ও সুদ পরিশোধের তুলনায় বেশি পরিমাণে নতুন সঞ্চয়পত্র বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে।
এর আগে মার্চে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওই মাসে নিট বিক্রি ছিল ঋণাত্মক ২ হাজার ১৩৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ নতুন বিক্রির তুলনায় পুরোনো সঞ্চয়পত্রের আসল ও সুদ বাবদ বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতেও একই প্রবণতা ছিল। সে সময় নিট বিক্রি ঋণাত্মক ছিল ১ হাজার ১৬৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
তবে বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। সে মাসে নিট বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। এরপর ফেব্রুয়ারি ও মার্চে টানা দুই মাস নেতিবাচক ধারায় থাকার পর এপ্রিলে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এই খাত।
গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায়ও চলতি বছরের এপ্রিলের চিত্র আরও শক্তিশালী। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এপ্রিলে নিট বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ২৫৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে চলতি বছরের এপ্রিলের নিট বিক্রি প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বেশি।
তবে এক মাসের এই ইতিবাচক পরিবর্তন সত্ত্বেও সামগ্রিক হিসাব এখনও পুরোপুরি অনুকূলে আসেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি এখনও ঋণাত্মক রয়েছে। এ সময়ে নতুন বিক্রির তুলনায় আগের আসল ও সুদ বাবদ ৪২৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে।
যদিও আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে নিট বিক্রি ছিল ঋণাত্মক ৭ হাজার ৪৩১ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান আরও বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো ১২ মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ঋণাত্মক ছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২১ হাজার ১২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকায়, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণাত্মক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।

