রাজধানীর যানজট কমানো এবং উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প আবারও সংশোধনের পথে। প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। একই সঙ্গে কাজ শেষ করতে বাড়ানো হচ্ছে আরও চার বছর সময়।
২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২২ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি।
পরে প্রথম সংশোধনীতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা এবং সময় বাড়ানো হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় বাড়ছে ১০ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা, যা প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্প পরিচালক যুগ্ম সচিব মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যে শুধু ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এ ছাড়া শুল্ক ও কর বাবদ ১ হাজার ৩০ কোটি টাকা, ভূমি অধিগ্রহণে ৭৪৭ কোটি টাকা, ইউটিলিটি স্থানান্তরে ৫১৫ কোটি টাকা এবং প্রাইস কন্টিনজেন্সি খাতে ১ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্পের নকশায় কিছু নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাইপাইলে নতুন ইন্টারসেকশন, বিমানবন্দরের কাছে কাওলায় প্রবেশ ও বের হওয়ার র্যাম্প নির্মাণ, রেললাইন দুই লাইন থেকে চার লাইনে উন্নীতকরণ, পিলার ও সিগন্যাল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ রয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের তথ্য অনুযায়ী, সংশোধিত ব্যয়ের মধ্যে চীনের ঋণ থাকবে ১৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা এবং সরকারি অর্থায়ন হবে ১৩ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড (ডিএলপি) দুই বছরসহ প্রকল্পের সময় বাড়ানো হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হবে।
প্রকল্প পরিচালক জানান, সংশোধনী অনুমোদন হলে বাইপাইলে নতুন একটি ইন্টারসেকশন যুক্ত করা হবে। এর ফলে ওই এলাকায় যানবাহনের চাপ কমবে এবং দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং নির্মাণাধীন পাতাল মেট্রোরেল-১ এর সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের বিষয়টিও প্রকল্পে যুক্ত করা হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কাওলা থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া, ধউর, আশুলিয়া, জিরাবো, বাইপাইল, সাভার ইপিজেড হয়ে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।
সরকার টু সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য রাজধানীর যানজট কমানো এবং দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা।
ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য ড. মো. নেয়ামত উল্যা ভূইয়া বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আসবে, পরিবহন ব্যয় ও সময় কমবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, এসব বিবেচনায় প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
একনেক সভায় উঠছে আরও ৮ প্রকল্প:4
আগামীকাল বুধবার একনেক সভায় ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প ছাড়াও আরও আটটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙন রোধ প্রকল্প, বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প এবং সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ প্রকল্প।
এ ছাড়া দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও উন্নয়ন, বেগমগঞ্জ-৫ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ এবং বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপ খনন, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার সম্প্রসারণ প্রকল্পও সভায় উপস্থাপন করা হবে।
এ সভায় মোট ৯টি প্রকল্পের পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের ১১টি প্রকল্পও উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

