বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো মূল্যস্ফীতির তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতির মাসিক তথ্য আগের তুলনায় অনেক দ্রুত প্রকাশ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা ও গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে বাজার থেকে পণ্যের দাম সংগ্রহের জন্য কাগজভিত্তিক জরিপ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। নতুন পরিকল্পনায় এই পদ্ধতির পরিবর্তে কম্পিউটার-সহায়িত সরাসরি তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে মাঠপর্যায়ে সংগ্রহ করা তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ ও যাচাই করা যাবে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে পরীক্ষামূলকভাবে এই ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে চলতি বছরের মধ্যেই এটি দেশব্যাপী বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থা চালু হলে মূল্যস্ফীতির তথ্য আর পরের মাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। বরং একই মাসের মধ্যেই তথ্য প্রকাশের সুযোগ তৈরি হবে। এমনকি প্রতি মাসের ২৫ তারিখের মধ্যেই মূল্যস্ফীতির হিসাব প্রকাশ করা সম্ভব হতে পারে।
অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। এটি শুধু নিত্যপণ্যের দাম কত দ্রুত বাড়ছে তা-ই নয়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতার পরিবর্তনেরও একটি স্পষ্ট ধারণা দেয়। সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে বেতন-ভাতা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এই তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার নির্ধারণ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ ব্যয় ও মূল্য নির্ধারণেও এই তথ্য ব্যবহার করে।
বর্তমানে পরিসংখ্যান ব্যুরো মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণ শেষে সাধারণত পরবর্তী মাসের প্রথম সপ্তাহে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে। কিন্তু ডিজিটাল ব্যবস্থায় পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
নতুন পদ্ধতির আরেকটি বড় সুবিধা হলো, বাজারদরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা শনাক্ত করবে। এরপর তথ্য যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সেটি মূল্যসূচকের হিসাবে যুক্ত হবে না। ফলে ভুল তথ্য প্রকাশের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, কিছু তথ্যসংগ্রাহক সব সময় বাজারে না গিয়েই অফিসে বসে জরিপপত্র পূরণ করেন। এতে তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় প্রতিটি তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হওয়ায় এমন অনিয়মের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং বিশ্লেষণের পুরো কাজ প্রায় ১৮ দিনের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব হবে। ফলে মাসিক মূল্যসূচক প্রস্তুত করতে আগের তুলনায় অনেক কম সময় লাগবে।
এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে পরিসংখ্যান সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায়, যা বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে পরিসংখ্যান ব্যুরো দেশের ১৫৪টি বাজার থেকে পণ্যের দাম সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ৯০টি শহরাঞ্চলে এবং ৬৪টি গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত। শহরাঞ্চলের মধ্যে ঢাকার ১২টি, চট্টগ্রামের ৪টি, অন্যান্য বিভাগীয় শহরের ১৮টি এবং জেলা শহরের ৫৬টি বাজার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জরিপে ১২৭টি খাদ্যপণ্যের ২৪২টি ধরন এবং ২৫৬টি খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ৫০৭টি ধরন অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে প্রতি সপ্তাহে এবং অন্যান্য শহর ও গ্রামাঞ্চলে প্রতি মাসে বাজারদর সংগ্রহ করা হয়।

