বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আমদানি বিল পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের বিনিময় হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ জুলাই আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের গড় বিনিময় হার ছিল প্রতি ডলার ১২৩ টাকা। কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকার পর তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ৩০ জুলাই আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দর পৌঁছায় ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায়। একই দিনে স্পট মার্কেটে ডলার লেনদেন হয়েছে ১২৩ টাকা ৮৮ পয়সায়।
ব্যাংকারদের মতে, জ্বালানি ও সার আমদানির জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর বড় অঙ্কের ডলার চাহিদা এবং সামগ্রিক আমদানি বৃদ্ধি বিনিময় হারের ওপর চাপ তৈরি করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে দেশের আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিপরীতে একই সময়ে রপ্তানি ২ শতাংশ কমে ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
যদিও গত অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ডে পৌঁছেছিল, ব্যাংকাররা বলছেন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কাও ডলারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে দুর্বল টাকার একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ব্যাংকারদের মতে, টাকার অবমূল্যায়নের ফলে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে, যা রপ্তানিকারকদের জন্য কিছুটা সুবিধা তৈরি করতে পারে।
এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়ায় ৮ জুন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা বন্ধ রেখেছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে মোট ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার কিনেছিল।

