চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে প্রবাসী আয়। সদ্য শেষ হওয়া জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে এসেছে ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮৩ পয়সা ধরে)।
রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের জুলাই মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসেই রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে এসেছিল ২৮২ কোটি মার্কিন ডলার। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই জুলাই মাসে আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বৈধ পথে পাঠানো অর্থের পরিমাণ। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রবাসীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও বাড়ছে।
টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবাসী আয়
গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) পুরো বছরে বৈধ চ্যানেলে দেশে এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার, যা প্রবৃদ্ধির হিসাবে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কেন বাড়ছে বৈধ পথে অর্থ পাঠানো?
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে। বিশেষ করে হুন্ডি নিরুৎসাহিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ, বৈধ পথে অর্থ পাঠালে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল লেনদেন সহজ হওয়ায় প্রবাসীদের বড় একটি অংশ এখন আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার করছেন।
এ ছাড়া বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের সেবা সহজ হওয়া এবং দ্রুত অর্থ পৌঁছানোর সুযোগও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে?
অর্থনীতিবিদদের মতে, ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স বাড়তে থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে, আমদানি ব্যয় নির্বাহে চাপ কিছুটা কমবে এবং টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার সময়ে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
তবে তারা মনে করেন, এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুবিধা আরও বাড়ানো, হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা এবং প্রবাসী কর্মীদের জন্য আরও আধুনিক ও সহজ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জুলাই মাসের পরিসংখ্যান বলছে, নতুন অর্থবছরের শুরুতেই প্রবাসী আয় শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আগামী মাসগুলোতেও এই প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

