বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে গ্যাস সংকটের কারণে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন খবরকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটির দাবি, শিল্প খাত বর্তমানে জ্বালানি সংকটের চাপের মধ্যে থাকলেও অধিকাংশ কারখানা উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে এবং গণহারে কারখানা বন্ধ হওয়ার যে তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিজিএমইএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্যাসের স্বল্পতার কারণে অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। বর্তমানে অনেক কারখানা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। তবে উৎপাদন কমে যাওয়া আর কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি এক নয়। তাই এ দুটি বিষয়কে এক করে উপস্থাপন করলে শিল্প খাত সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী গ্যাস সংকটের কারণে তাদের কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে—এমন দাবিও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে বিজিএমইএ স্পষ্টভাবে জানায়, ওই তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের সংবাদ শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করে না, বরং পুরো পোশাক শিল্প সম্পর্কেও আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকও কারখানা বন্ধের খবর অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের সব কারখানাই স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং কারখানা বন্ধের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
বিজিএমইএ আরও ব্যাখ্যা করেছে, ৬ আগস্ট, বৃহস্পতিবার অনেক পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে এর কারণ গ্যাস সংকট নয়। ৫ আগস্টের সরকারি ছুটি এবং ৭ আগস্টের সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে শ্রম আইন অনুযায়ী অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করেছে। ফলে মাঝের দিনটিতে উৎপাদন বন্ধ রেখে টানা ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি শিল্প খাতে বহুদিনের প্রচলিত একটি ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং এর সঙ্গে স্থায়ীভাবে কারখানা বন্ধ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।
সংগঠনটির মতে, বর্তমান সময়ে দেশের পোশাক শিল্প নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। জ্বালানি সংকট উৎপাদনে চাপ সৃষ্টি করলেও উদ্যোক্তারা উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় যাচাই-বাছাই ছাড়া কারখানা বন্ধের খবর প্রকাশিত হলে দেশি-বিদেশি ক্রেতা, ব্র্যান্ড, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে।
বিজিএমইএর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে একটি নির্ভরযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য সেই বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর প্রভাব শুধু রপ্তানির ওপরই নয়, এই খাতের সঙ্গে যুক্ত লাখো শ্রমিকের জীবিকা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবতা হলো দেশে গ্যাস সরবরাহ সংকট বিদ্যমান এবং এর প্রভাব শিল্প উৎপাদনে পড়ছে। কিন্তু উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়া মানেই শিল্প কার্যক্রম থেমে যাওয়া নয়। তাই বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে বিজিএমইএর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, পোশাক শিল্প বর্তমানে জ্বালানি সংকটের চাপ সামলাচ্ছে ঠিকই, তবে গণহারে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর সঠিক নয়। সংগঠনটি দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ওপর জোর দিয়ে বলেছে, দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব জাতীয় অর্থনীতির ওপরও পড়তে পারে।

