Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, আগস্ট 12, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » হালাল শিল্প কী, এই খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটা?
    অর্থনীতি

    হালাল শিল্প কী, এই খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটা?

    নিউজ ডেস্কUpdated:আগস্ট 12, 2026আগস্ট 12, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর প্রকাশিত দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বিশেষ গুরুত্ব পায় হালাল শিল্পের প্রসঙ্গ। এরপর থেকেই অনেকের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—হালাল শিল্প আসলে কী? এর পরিধিই বা কতটা এবং মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এই খাতে কতটা এগিয়ে যেতে পারে?

    দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘দুই নেতা বৈশ্বিক ইসলামি অর্থনীতির বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা স্বীকার করেন এবং বাংলাদেশের হালাল খাতের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে সম্মত হন।’

    এর আগে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মালয়েশিয়া সফরেও ‘হালাল শিল্প’ প্রসঙ্গটি আলোচনায় এসেছিল।

    মালয়েশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমকে তখন মি. ইউনূস বলেছিলেন, ‘আমাদের সম্পদ একত্র করতে পারলে হালাল খাতই হবে ঢাকা ও পুত্রজায়ার মধ্যে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির সবচেয়ে স্বাভাবিক ক্ষেত্র।’

    কিন্তু হালাল শিল্প বলতে আসলে কী বোঝায়? মালয়েশিয়ার হালাল শিল্পের আওতায় কোন কোন খাত রয়েছে? আর বাংলাদেশে এই শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনাই বা কতটা?

    কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (কমার্শিয়াল) প্রণব কুমার ঘোষ বলেন, মালয়েশিয়া হালাল শিল্পের বৈশ্বিক রোল মডেল। এ খাতে বাংলাদেশেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা ও কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারলে হালাল শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ‘গেমচেঞ্জার’ হয়ে উঠতে পারে।

    বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ বলেন, হালাল শিল্পে মালয়েশিয়া চ্যাম্পিয়ন দেশ। তাই দেশটির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রায় তিন ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক ‘হালাল অর্থনীতিতে’ বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান তৈরির সুযোগ নিতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের বড় সমস্যা হলো সার্টিফিকেশন বা সনদ দেওয়া নিয়ে। ভালো ল্যাবরেটরি করে সার্টিফিকেশন সমস্যা কাটিয়ে তোলা গেলে বাংলাদেশ হালাল খাতে ভালো করবে।’

    হালাল শিল্পের বিস্তৃত অর্থ কী?

    মো. আনোয়ার শহীদের ভাষায়, হালাল শিল্প একটি ইকোসিস্টেম, যার মধ্যে ব্যাংকিং, ট্যুরিজম, হালাল হোটেল ইন্ডাস্ট্রি, হালাল লজিস্টিক, হালাল ফার্মাসিউটিক্যালসহ নানা ধরনের খাত ও ধারণা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    প্রণব কুমার ঘোষের মতে, হালাল শিল্প শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি বৈশ্বিক ধারণা, যার পরিধি খাদ্য থেকে শুরু করে পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবা পর্যন্ত বিস্তৃত।

    মালয়েশিয়া হালাল শিল্প নিয়ে যে মাস্টার প্ল্যান করেছে, সেখানে হালাল ইকোসিস্টেমকে এমন একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে হালাল পণ্য ও সেবার উৎপাদন, উন্নয়ন, সরবরাহ এবং বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপাদান পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

    এই উপাদানগুলো সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। ইকোসিস্টেমের প্রতিটি অংশের নিজস্ব কার্যক্রম থাকলেও সেগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এর মাধ্যমে একটি টেকসই ও ক্রমবর্ধমান ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

    অর্থাৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে পণ্য বা সেবা পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে হালাল পদ্ধতি বা উপকরণ নিশ্চিত করে যে শিল্পব্যবস্থা গড়ে ওঠে, সেটিই মূলত হালাল শিল্পের পরিধির মধ্যে পড়ে।

    চার দশকে মালয়েশিয়ার হালাল সাম্রাজ্য

    ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, হালাল শিল্পে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা প্রায় ৪০ বছরের। হালাল শিল্পের বিকাশ ও মানোন্নয়নে দেশটি ধীরে ধীরে বিশ্বে পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

    মালয়েশিয়ায় হালাল পণ্যের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এর ফলে দেশটি বর্তমানে হালাল পণ্যের নিট আমদানিকারক দেশেও পরিণত হয়েছে।

    দেশটির সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালে মালয়েশিয়ার হালাল মার্কেটের আকার দাঁড়াবে ১১৩ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালে এই বাজারের আকার ছিল ৬৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ফুড ও বেভারেজ খাতের বাজার ২০৩০ সালে ৮৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ২০১৮ সালে ছিল ৫১ বিলিয়ন ডলার।

    এর বাইরে কসমেটিক ও পার্সনাল কেয়ার এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতও হালাল শিল্পের দ্বিতীয় ও তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

    মালয়েশিয়ার হালাল শিল্পে মোট নয়টি খাত অন্তর্ভুক্ত। এগুলো হলো—ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, কসমেটিক ও পার্সনাল কেয়ার, ইনগ্রিডিয়েন্টস, ফার্মাসিউটিক্যালস, মডেস্ট ফ্যাশন, মেডিকেল ট্যুরিজম ও ডিভাইসেস, মুসলিম ফ্রেন্ডলি হাসপাতাল, লজিস্টিক সার্ভিস এবং ইসলামিক ফাইন্যান্স।

    মালয়েশিয়ায় হালাল শিল্প সম্পর্কিত সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি ১৯৭০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

    সরকারি নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের পাশাপাশি জাকিম (সনদ প্রদানকারী সংস্থা), হালাল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন বা এইচডিসি এবং মালয়েশিয়া হালাল কাউন্সিলের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়াকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ হালাল শিল্প ও সার্টিফিকেশন মডেলে পরিণত করতে ভূমিকা রেখেছে।

    দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগ ১৯৭০ সালে হালাল শিল্পের কার্যক্রম গ্রহণে উদ্যোগী হয়। তবে হালাল খাদ্য সম্পর্কে প্রথম সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয় ১৯৭৪ সালে। ওই বছরেই দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় হালাল খাদ্য পরিদর্শন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রমে যুক্ত হয়।

    এরপর ১৯৮৪ সালে মালয়েশিয়ার জাতীয় ফতোয়া কাউন্সিল হালাল ও হারাম-সম্পর্কিত বিষয়গুলোর জন্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া শুরু করে। এর ফলে হালাল ব্যবস্থার আইনি ও শরিয়াহভিত্তিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়।

    মালয়েশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি হালাল লোগো চালু করে ১৯৯৪ সালে। ২০০২ সালে হালাল সনদ প্রদানের দায়িত্ব জাকিম নামের সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে সারা দেশে হালাল সার্টিফিকেশন কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হতে থাকে।

    এরপর ২০০৮ সালে হালাল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন বা এইচডিসিকে হালাল শিল্প উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হালাল শিল্পের পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও রপ্তানি উন্নয়নে কার্যক্রম শুরু হয়।

    তবে ২০০৯ সালে হালাল সনদ দেওয়ার দায়িত্ব আবার জাকিমকে দেওয়া হয়। পরের বছরই সারাদেশে একীভূত হালাল সনদ ব্যবস্থা কার্যকর হয়। ২০১১ সালে হালাল দাবি, লেবেলিং ও সনদ প্রদানের জন্য নতুন আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়।

    ২০১৬ সালে মালয়েশিয়া হালাল মুভমেন্ট বা এমআইচএমের অধীনে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে একত্রিত করা হয়। ২০২০ সালে হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ সংক্রান্ত মানদণ্ড গ্রহণ করা হয়।

    পণ্য থেকে সেবায় হালাল নিশ্চয়তা

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, মালয়েশিয়া অস্ট্রেলিয়া থেকেও মাংস আমদানি করে। তবে আমদানির শুরু থেকেই সেই মাংস হালাল কি না, তা নিশ্চিত করা হয়।

    বর্তমানে মালয়েশিয়া ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে হালাল পণ্য সংগ্রহ করে।

    দেশটির পোশাক খাতে হালালের যে অংশ রয়েছে, সেটিকে বলা হয় মডেস্ট ফ্যাশন খাত। অর্থাৎ যেসব পোশাক ‘মার্জিত’ হিসেবে বিবেচিত হয়। মালয়েশিয়া মিশ্র সংস্কৃতির দেশ। দেশটির জনগোষ্ঠীর মধ্যে চীনা, ভারতীয় ও মালয় জনগোষ্ঠী সংখ্যায় বড়।

    ফলে দেশটিতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে হালাল সনদযুক্ত পণ্য ও সেবা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটি দেশটির হালাল শিল্পকে শক্ত ভিত্তি তৈরিতে সহায়তা করেছে।

    বাংলাদেশের একটি কোম্পানি মালয়েশিয়ায় পণ্য পাঠানোর জন্য হালাল সনদ পাওয়ার পর মালয়েশিয়ার সনদ প্রদানকারী সংস্থা জাকিমকে বাংলাদেশে এনেছিল। এখন জাকিমের হালাল সনদ নিয়েই তারা মালয়েশিয়ায় পণ্য পাঠায় বলে জানা গেছে।

    মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বেশ কিছু দেশে এখন মাংসসহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে হালাল সনদ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় একটি পণ্য বা সেবাকে হালাল সনদ দেওয়ার আগে কয়েকটি ধাপে হালাল মান নিশ্চিত করা হয়।

    এসব ধাপ হলো—কাঁচামাল, উৎপাদন, প্যাকেজিং, ওয়্যারহাউজ বা লজিস্টিক, পরিবহন এবং ভোক্তার হাতে পণ্য তুলে দেওয়া।

    এ কাজের জন্য মালয়েশিয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে। এর একটি হলো জাকিম। প্রতিটি স্তরে যাচাই-বাছাই করে হালাল সনদ দেওয়ার দায়িত্ব এই সংস্থার।

    অন্যটি হলো হালাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল বা এইচডিসি। এই সংস্থা শিল্পখাতকে হালাল সক্ষমতা অর্জনে প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে।

    বাংলাদেশে সম্ভাবনা, সামনে বড় বাধা

    বাংলাদেশে ২০২৩ সালে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক পণ্য উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি ও বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে ‘হালাল সনদ নীতিমালা-২০২৩’ নামে একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।

    তখন বলা হয়েছিল, কোনো পণ্যের হালাল স্বীকৃতি পেতে চাইলে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাছে আবেদন করে হালাল সনদ ও লোগো নিতে হবে।

    এর আগে ২০২১ সাল থেকে হালাল সনদ দিয়ে আসছিল বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। ফলে দুটি সংস্থাই হালাল সনদ দেওয়ার কাজ করে আসছে।

    বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৮৫ কোটি ডলারের হালাল পণ্য রপ্তানি করে। এর বেশিরভাগই কৃষিভিত্তিক পণ্য।

    এখন পর্যন্ত প্রায় ২৮০টি প্রতিষ্ঠানকে হালাল সনদ দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে সনদ দেওয়ায় নতুন জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সনদ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেন, হালাল খাতে অনেক সম্ভাবনা থাকলেও প্রকৃত অর্থে এর সুফল পেতে হলে সরকারকে আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা এখন মালয়েশিয়ার জাকিমের নীতিমালা অনুসরণ করছি। পণ্য সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল এক্সপার্ট ও শরিয়াহ এক্সপার্টদের দিয়ে একটি পণ্যের প্রতিটি ধাপের পর্যালোচনা হয় হালাল সনদ দেওয়ার আগে। কিন্তু মানুষ এখনো অত্যাধুনিক জবাইখানা ব্যবহার করে না। গরু বলুন আর মুরগি বলুন, সবাই যত্রতত্র নিজের মতো করে জবাই করে।’

    তিনি জানান, ‘এসব কারণেই হালাল সনদ দিয়ে মাংস ও মাংসজাত দ্রব্য মালদ্বীপ ছাড়া কোথাও পাঠানো যাচ্ছে না নানা সংকটের কারণে। একটি হালাল অর্থনৈতিক জোন এ সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে।’

    এরপরও ব্যবসায়ীরা মনে করেন, মালয়েশিয়ায় শুধু হালাল খাবার নয়, হালাল হোটেল, ওষুধের বাজার ও পর্যটন খাতেও বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ রয়েছে। এমনকি দুই দেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

    বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা প্রণব কুমার ঘোষ বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রায় সবকিছুই হালাল। সে কারণে শিল্প খাত হিসেবে হালাল শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনাও এখানে ব্যাপক।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের হালাল পণ্যের বৈশ্বিক স্বীকৃতি নেওয়া গেলে অনেক দেশেই তা রপ্তানি করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানের সনদের জন্য ল্যাবরেটরি সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের সুফল দেবে।’

    বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলারের হালাল খাদ্য আমদানি হয়। ২০৩০ সাল নাগাদ এই আমদানির পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটি মনে করে, বাংলাদেশ সরকারিভাবে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারলে এই বাজারেই কয়েক বিলিয়ন ডলারের হালাল খাদ্য রপ্তানির সুযোগ নিতে পারে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডা হালাল খাত নিয়ে মালয়েশিয়ার এইচডিসির সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।

    বিএমসিসিআই সভাপতি আনোয়ার শহীদ মনে করেন, সার্টিফিকেশন বা সনদের সীমাবদ্ধতার কারণে হালাল শিল্পে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান দুর্বল।

    তিনি বলেন, ‘এখন ইসলামিক ফাউন্ডেশন আর বিএসটিআই (হালাল) সনদ দিচ্ছে। কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তো ল্যাব নেই। বিএসটিআইয়ের টেস্টিং ক্যাপাসিটি খুব বেশি নয়। ফলে এখন ব্যবসায়ীদের তাদের পণ্যের জন্য মালয়েশিয়ার জাকিম বা ওই মানের অন্য দেশের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সনদ নিতে হচ্ছে। খাবার কিংবা ঔষধের জন্য ল্যাব তো স্থাপন করতেই হবে। এসব করা গেলে বাংলাদেশের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হবে।’

    মি. শহীদ জানান, তারা হালাল শিল্প নিয়ে আগামী মার্চে একটি সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে খাতটির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে সরকারকে সহায়তা করাই হবে তাদের লক্ষ্য।

    সব মিলিয়ে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, হালাল শিল্প শুধু খাদ্যপণ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কোনো সীমিত বাজার নয়। ব্যাংকিং, পর্যটন, ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রসাধনী, পোশাক, লজিস্টিক ও চিকিৎসাসেবাসহ বিস্তৃত একটি অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম এর সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশের সামনে এই বিশাল বাজারে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন, পরীক্ষাগার, উৎপাদনব্যবস্থা ও সমন্বিত নীতিকাঠামো তৈরি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

    সূত্র: বিবিসি

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    পুঁজিবাজার

    ধারের টাকায় পুঁজিবাজারে গতি, ২০১০ এর পুনরাবৃত্তি ঠেকানোই বড় পরীক্ষা

    আগস্ট 12, 2026
    অর্থনীতি

    ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ কৃষিজমিতে টেকসই চাষাবাদের লক্ষ্য সরকারের

    আগস্ট 12, 2026
    অর্থনীতি

    এলসি বাড়লেও আমদানিতে গতি নেই

    আগস্ট 12, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.