চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে সরকারের মোট ঋণ বেড়ে ২২ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। মূলত অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বেশি ঋণ নেওয়ার কারণে এই সময়ে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ৫.৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অর্থবছর শুরুর সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চ শেষে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ৮.৪১ শতাংশ বেড়ে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সরকারের বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ার বিষয়টি এই ঋণ বৃদ্ধির হিসাবেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অভ্যন্তরীণ ঋণের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ব্যাংক খাত থেকে। মার্চ শেষে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে ৮ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বাজেটের ঘাটতি পূরণে সরকার ক্রমেই ব্যাংকনির্ভর হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের ঋণ কিছুটা কমেছে। জাতীয় সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন সঞ্চয়ভিত্তিক উপকরণ থেকে নেওয়া ঋণ ১.৪৬ শতাংশ কমে ৪ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এতে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ভিত্তিক উপকরণ থেকে সরকারের অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ কমে যাওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে।
অভ্যন্তরীণ ঋণের তুলনায় বিদেশি ঋণ বেড়েছে ধীরগতিতে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চ শেষে সরকারের বিদেশি ঋণ ১.৫ শতাংশ বেড়ে ৯ লাখ ৬৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
সরকারের ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঋণ পরিশোধের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সরকারের মোট সুদ ব্যয় ২৯ শতাংশ বেড়েছে।
বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বেড়েছে বেশি। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। বেশি পরিমাণে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি ঋণের সুদের হার তুলনামূলক বেশি থাকায় এই ব্যয় বেড়েছে।
অন্যদিকে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে বিদেশি ঋণের সুদ ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.০ শতাংশ বেড়েছে।
সামগ্রিকভাবে সরকারের ঋণের এই চিত্রে অভ্যন্তরীণ উৎস, বিশেষ করে ব্যাংক খাতের ওপর বাড়তে থাকা নির্ভরতা স্পষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় দ্রুত বাড়ায় সরকারের রাজস্ব ও বাজেট ব্যবস্থাপনার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ঋণ বাড়ার পাশাপাশি সুদ ব্যয়ও যদি একইভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারের উন্নয়ন ও অন্যান্য ব্যয়ের জন্য অর্থের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

