জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি নতুন করে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ের ১০টি প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছয়টি একেবারে নতুন এবং বাকি চারটি আগের প্রকল্পের সংশোধিত সংস্করণ।
বুধবার পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে অবস্থিত সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তথা একনেকের চেয়ারপারসনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ থাকছে ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা, বাকি অর্থের সংস্থান হবে ঋণের মাধ্যমে।
অনুমোদিত প্রকল্পের তালিকায় স্বাস্থ্য খাতের দুটি উদ্যোগ রয়েছে—একটি হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহার-অনুপযোগী স্থাপনা ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা, অন্যটি দেশের ১০টি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি আধুনিক হোস্টেল ভবন তৈরির সংশোধিত পরিকল্পনা।
সড়ক ও সেতু খাতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন সেতুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
পানিসম্পদ খাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে—একটির লক্ষ্য লালমনিরহাট সদর উপজেলাকে ধরলা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করা, অন্যটির উদ্দেশ্য চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার একটি ফেরিঘাট এলাকা থেকে আরেকটি ঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ মজবুত করা।
গ্রামীণ অবকাঠামো খাতে গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায়। এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর একটি প্রকল্পের তৃতীয় দফা সংশোধনীও অনুমোদিত হয়েছে।
জ্বালানি খাতে দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে—জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দ্বিতীয় সংশোধিত পরিকল্পনা এবং রাজধানীর ডেসকো এলাকায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের প্রথম সংশোধনী। প্রতিরক্ষা খাতে রামু সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়নের একটি প্রকল্পও অনুমোদন তালিকায় স্থান পেয়েছে।
এসবের বাইরে বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী একনেককে জানান, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের নয়টি প্রকল্প ইতোমধ্যে পৃথকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে জৈব নিরাপত্তা মান-৩ মাত্রার একটি গবেষণাগার স্থাপনসহ ভ্যাকসিন ও বায়োলজিক্স গবেষণা সক্ষমতা যাচাইয়ের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, পরিবেশগত টেকসইতা ও রূপান্তর সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী, সুন্দরবন সংরক্ষণ উদ্যোগ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিড সম্প্রসারণের দ্বিতীয় সংশোধনী, রাজধানীর গুলশানে একটি ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আওতাধীন এলাকায় বিতরণ ব্যবস্থার দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন পরিকল্পনা, মসজিদভিত্তিক পাঠাগার সম্প্রসারণের চতুর্থ পর্যায় এবং জনসেবা পৌঁছাতে নতুন মাধ্যমের সর্বোত্তম ব্যবহার সংক্রান্ত একটি প্রকল্প।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, পানিসম্পদ, অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষাসহ একাধিক খাতে ভারসাম্যপূর্ণভাবে এই বরাদ্দ বণ্টন করা হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়ন চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

