দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আরও ১৪ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় এসব এলএনজি কেনার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানাসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বজায় রাখা।
অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ১৪ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে দুটি করে কার্গো সংগ্রহ করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের জ্বালানি চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে এই এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে তা সামাল দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।
একই দিনে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আরও একটি এলএনজি কার্গো আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড এই কার্গো সরবরাহ করবে। আগামী ১ থেকে ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্গোটি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এই এলএনজির প্রতি এমএমবিটিইউর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার। চলতি বছরে এটি হবে দেশের ৪৪তম এলএনজি কার্গো।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সার উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া গ্যাস দিয়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পুরোপুরি মেটানো কঠিন হয়ে পড়ায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে এর প্রভাব শুধু শিল্পকারখানাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সার কারখানার উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ কারণে সরকার নিয়মিত সরবরাহের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনেও এলএনজি সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখছে।
দেশের এলএনজি চাহিদা পূরণে সরকার বিভিন্ন পদ্ধতিতে আমদানি করছে। স্পট বাজার থেকে কেনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়ও এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তবে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সাময়িক ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদনকে সেই ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের চাহিদা বাড়তে থাকায় সামনে আমদানির প্রয়োজন আরও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি চাহিদার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সরকারের এই উদ্যোগের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো দেশে গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি না হতে দেওয়া। বিশেষ করে শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
তবে দীর্ঘমেয়াদে শুধু আমদানি বাড়িয়ে গ্যাসের চাহিদা মেটানো কতটা টেকসই হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পাবে।
বর্তমানে বাড়তে থাকা চাহিদার বিপরীতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার আমদানির দিকে জোর দিচ্ছে। আরও ১৪ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন সেই প্রচেষ্টাকেই আরও জোরদার করল।

