দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নতুন উদ্যোক্তাদের সুযোগ করে দিতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন। সংস্থাটি দেশের ১৮টি শিল্পনগরী ও শিল্পপার্কে মোট ১৬৫২ শিল্পপ্লট বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করতেই গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানিসহ সম্পূর্ণ অবকাঠামো সুবিধাসহ এই প্লটগুলো দেওয়া হবে।
সংস্থাটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় আগ্রহী উদ্যোক্তারা আগামী এক মাসের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দিতে পারবেন। প্রয়োজনীয় আবেদন ফরম প্রধান কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট জেলা বা আঞ্চলিক কার্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
প্লট বরাদ্দের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এবারের বরাদ্দে সবচেয়ে বড় অংশ পাচ্ছে সিরাজগঞ্জের একটি শিল্পপার্ক, যেখানে পাঁচশ সাতান্নটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এরপরই রয়েছে মুন্সীগঞ্জের বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও হালকা প্রকৌশল শিল্পনগরী, যেখানে তিনশ ছাব্বিশটি প্লট বরাদ্দ হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাউজান শিল্পনগরীতে একশ তেষট্টিটি এবং বরিশাল শিল্পনগরীতে একশ বারোটি প্লট বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব বড় প্রকল্পের বাইরেও দেশের আরও চৌদ্দটি শিল্পনগরীর নির্দিষ্টসংখ্যক প্লটের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সম্প্রসারিত ও নতুন শিল্পনগরী এলাকা।
এই উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কিস্তি পরিশোধ ও জামানত জমার ক্ষেত্রে তুলনামূলক শিথিল শর্ত রাখা হয়েছে। একজন নারী উদ্যোক্তা কেবল জমির মোট মূল্যের পনেরো শতাংশ জামানত জমা দিয়েই আবেদন করতে পারবেন, আর বাকি অর্থ একবারে অথবা সর্বোচ্চ সাত বছরে চৌদ্দটি কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ থাকছে। বিপরীতে পুরুষ উদ্যোক্তাদের আবেদনের সময়েই জমির প্রাক্কলিত মূল্যের বিশ শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে, এবং অবশিষ্ট অর্থ একবারে বা পাঁচ বছরে বারোটি সমান কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য।
শিল্পনগরীগুলোতে থাকছে আধুনিক নাগরিক ও শিল্প সুবিধাও। পরিকল্পিত পানি, গ্যাস ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার পাশাপাশি বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান, অগ্নিনির্বাপণ সুবিধা, সবুজ এলাকা, মসজিদ ও জলাধারের মতো সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে পরিকল্পনায়। পাশাপাশি উদ্যোক্তারা চাইলে বরাদ্দকৃত প্লট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বন্ধক রেখে জামানতি ঋণও নিতে পারবেন, যা নতুন উদ্যোগ শুরু করতে মূলধন সংগ্রহে সহায়ক হবে। প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ ব্যবস্থাও।
সংস্থাটি জানিয়েছে, পুরো বরাদ্দ প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে ২০২৩ সালে প্রণীত শিল্পনগরী ও শিল্পপার্ক প্লট বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিমালা অনুসরণ করে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা এই শিল্পনগরীগুলোতে পরিকল্পিত অবকাঠামোসহ প্লট বরাদ্দের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

