বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বাজারে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে মূলত তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয়, বিপুল শ্রমশক্তি এবং বড় পরিসরে উৎপাদনের সক্ষমতার ওপর ভর করে। এই কৌশল একসময় বাংলাদেশের জন্য বড় সাফল্য এনে দিয়েছে। লাখো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বেড়েছে এবং বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পোশাক রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু সেই পুরোনো সুবিধাই এখন ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। আন্তর্জাতিক বাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে। উৎপাদনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, ক্রেতারা পরিবেশ ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে আরও কঠোর হচ্ছে, উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মধ্যে রপ্তানি প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে। এর সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের বাস্তবতাও যুক্ত হয়েছে।
এ অবস্থায় শুধু কম মজুরির শ্রমিকের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে আর প্রতিযোগিতায় ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, আগামী দিনের পোশাকশিল্পকে টিকে থাকতে হলে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকের দক্ষতা, নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি, কর্মপরিবেশ এবং অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকায় আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘মর্যাদাপূর্ণ কাজ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য ব্যবস্থা পুনর্গঠন’ শীর্ষক আলোচনাটি যৌথভাবে আয়োজন করে কেয়ার বাংলাদেশ ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
পোশাকশিল্প দাঁড়িয়ে পরিবর্তনের মুখে
কেয়ার বাংলাদেশের উপদেশক দেশীয় পরিচালক এমেবেট মেনা বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প এখন এমন এক সময়ে প্রবেশ করছে, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত মানদণ্ড শিল্পটির ভবিষ্যৎ নতুনভাবে নির্ধারণ করছে।
তাঁর মতে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিঃসন্দেহে একটি বড় সাফল্যের গল্প। এই খাত লাখো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে এবং অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে হলে সাফল্যের পুরোনো কাঠামোর ওপর নির্ভর করে বসে থাকার সুযোগ নেই।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ, উৎপাদন প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন ধারা, পরিবেশগত শর্ত এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা—সবকিছু মিলিয়ে পোশাকশিল্পের সামনে নতুন ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি, নারী-পুরুষের সমতা এবং মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির জ্বালানি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নিশাত নাহিম হামিদ বলেন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাতের প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রেই উৎপাদনশীলতাকে রাখতে হবে।
এই বক্তব্যের তাৎপর্য বেশ গভীর। কারণ শুধু শ্রমিকের মজুরি কম রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক থাকা দীর্ঘমেয়াদে সম্ভব নয়। বরং একই সময়ে কম সম্পদ ব্যবহার করে বেশি উৎপাদন, উন্নত মান বজায় রাখা, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি করাই হতে পারে ভবিষ্যতের মূল শক্তি।
নিশাত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোকেও সরবরাহকারীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার জন্য জ্বালানির দাম ও সরবরাহে পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
তাঁর মতে, শ্রমিকের জন্য ভালো কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ব্যয় শুধু কারখানা মালিকের ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না। সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রেতা, মালিক এবং শ্রমিক—সবারই এতে দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বিশেষভাবে কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাপের চাপ, চাকরির নিরাপত্তা এবং নারীদের তদারকি ও ব্যবস্থাপনার পদে ওঠার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলোর বিষয়ও তুলে ধরেন।
শ্রমিক পিছিয়ে থাকলে শিল্পের অগ্রগতি অসম্পূর্ণ
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুফল শ্রমিক ও মালিক—দুই পক্ষেরই পাওয়া উচিত।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে যেন শ্রমিক শ্রেণির উন্নতিও ঘটে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ শিল্পের মুনাফা বাড়লেও যদি শ্রমিকের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা ও অধিকার একই জায়গায় পড়ে থাকে, তাহলে সেই অগ্রগতিকে টেকসই বলা কঠিন।
পোশাকশিল্পে নারীদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং জ্বালানি সংকট তাঁদের কর্মসংস্থানের ওপর নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর মতে, নারীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ এবং প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—আন্তর্জাতিক ক্রেতারা কি উন্নত কর্মপরিবেশ, পরিবেশ রক্ষা এবং শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে বাড়তি ব্যয় বহনের জন্য প্রস্তুত?
শাহীন আনাম নদীদূষণ, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নের দুর্বলতার বিষয়ও তুলে ধরেন।
সনদ থাকলেই কি শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়?
পোশাক শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চায়না রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে আরও মৌলিক একটি প্রশ্ন। তাঁর মতে, মর্যাদাপূর্ণ কাজ বলতে শুধু একটি নিরাপদ ভবন বা কারখানার বাহ্যিক সৌন্দর্য বোঝালে চলবে না।
নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং শ্রমিকদের নিজেদের কথা বলার ও সংগঠিত হওয়ার অধিকার—এসবও মর্যাদাপূর্ণ কাজের অপরিহার্য অংশ।
কারখানা পরিবেশবান্ধব সনদ পেলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যায় না। কারখানার ভেতরে শ্রমিক কীভাবে আচরণ পাচ্ছেন, তাঁদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত, কর্মপরিবেশ কতটা মানবিক—এসব প্রশ্নের উত্তরও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এখানেই বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সামনে একটি বড় বাস্তবতা দাঁড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও শ্রমিকবান্ধব কর্মপরিবেশের দাবি যত বাড়বে, ততই কারখানাগুলোকে শুধু উৎপাদনের পরিমাণ নয়, উৎপাদনের পদ্ধতির দিকেও নজর দিতে হবে।
আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ কতটা কার্যকর?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, শিল্পের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিকের আইনি ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষাও উন্নত করতে হবে।
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ১৯০ নম্বর সনদ অনুমোদন করেছে এবং শ্রম আইনে পরিবর্তনও আনা হয়েছে। তবে কর্মক্ষেত্রে হয়রানির শিকার শ্রমিকদের কার্যকরভাবে বিচার পাওয়ার সুযোগ এখনও যথেষ্ট নয় বলে তিনি মনে করেন।
কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি মোকাবিলায় আলাদা আইন প্রণয়ন, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং নারী-সংবেদনশীল পরিদর্শনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি বলেন।
অর্থাৎ আইন তৈরি করাই শেষ কথা নয়। আইন বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, শ্রমিক অভিযোগ করলে কত দ্রুত প্রতিকার পাচ্ছেন এবং অপরাধের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না—এসবই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
৮০ লাখ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য মাত্র ৪২৭ পরিদর্শক
কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. আতিউর রহমান জানান, অধিদপ্তরের হাতে বর্তমানে মাত্র ৪২৭ জন পরিদর্শক রয়েছেন। তাঁদের দিয়ে প্রায় ৮০ লাখ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হচ্ছে।
এত বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে এত কম পরিদর্শক থাকায় নিয়মিত পরিদর্শন কার্যত অত্যন্ত কঠিন। ফলে শ্রমিকের নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ ও শ্রম আইন মেনে চলার বিষয়টি সব প্রতিষ্ঠানে সমানভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, পোশাকশিল্পে কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা কমলেও চা, মৎস্য, চামড়া, মৃৎশিল্প ও ইস্পাতসহ অন্যান্য খাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
শ্রমিকদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য তৈরি শ্রম তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও অর্থের অভাবে পিছিয়ে আছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪০ লাখ শ্রমিকের তথ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা ছিল।
অনুমোদিত পদ খালি থাকাও বড় সমস্যা
শ্রম অধিকারকর্মী রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে যেমন শৃঙ্খলা দরকার, তেমনি প্রয়োজন গণতান্ত্রিক পরিবেশ।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, অনুমোদিত পরিদর্শক পদের প্রায় ৪০ শতাংশই যদি খালি থাকে, তাহলে শ্রমিকের অধিকার ও কর্মপরিবেশের কার্যকর তদারকি কীভাবে সম্ভব?
শ্রম মন্ত্রণালয়ের বাজেট নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। জাতীয় বাজেট যেখানে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকা, সেখানে শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৪৬৭ কোটি টাকা। অথচ দেশে শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৭৬ মিলিয়ন।
এই ব্যবধানটি দেখিয়ে দেয়, শ্রমশক্তি অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় দুর্বল।
সামনে শুধু পোশাক নয়, পুরো অর্থনীতির প্রশ্ন
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—দেশ কি কম শ্রম ব্যয়ের সুবিধা থেকে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার সুবিধার দিকে যেতে পারবে?
বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা এখন শুধু কম দামে পণ্য সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ক্রেতারা পণ্যের মান, সরবরাহের নিশ্চয়তা, পরিবেশগত প্রভাব, শ্রমিকের অধিকার এবং উৎপাদন ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। জ্বালানি সংকট, প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা এবং শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার ব্যয়—সব মিলিয়ে পুরোনো ব্যবসায়িক মডেলকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে।
এখানে শ্রমিকের দক্ষতা উন্নয়ন একটি বড় বিনিয়োগ হতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেসব কর্মী নতুন প্রযুক্তি পরিচালনা করতে পারবেন, তাঁদের চাহিদা বাড়বে। একই সঙ্গে নারী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নেতৃত্বের পর্যায়ে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে শিল্পের উৎপাদনশীলতাও বাড়তে পারে।
কম মজুরি নয়, দক্ষতাই হতে পারে ভবিষ্যতের শক্তি
বাংলাদেশের পোশাকশিল্প যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু গত কয়েক দশকের সাফল্য দিয়ে আগামী কয়েক দশকের প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা যাবে না।
শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর—উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শ্রমিকের মর্যাদা।
কারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শ্রমিককে ন্যায্য মজুরি দেওয়া, দক্ষতা বাড়ানো, নারী শ্রমিকের অগ্রগতির পথ খুলে দেওয়া এবং শ্রম আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা কেবল শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষার বিষয় নয়; এগুলো শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
তাই বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য এখন বার্তাটি স্পষ্ট—সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভরতার যুগ শেষের দিকে। সামনে টিকে থাকতে হলে কম খরচের পাশাপাশি বেশি দক্ষতা, বেশি উৎপাদনশীলতা, উন্নত প্রযুক্তি এবং শ্রমিকের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
কারণ বৈশ্বিক বাজারে আগামী দিনের প্রতিযোগিতায় শুধু সস্তায় উৎপাদন করতে পারলেই হবে না; প্রমাণ করতে হবে, বাংলাদেশ একই সঙ্গে দক্ষ, দায়িত্বশীল এবং টেকসইভাবে উৎপাদন করতে পারে।

