অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার থেকে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে যাওয়ার বড় পরিকল্পনা সরকারের। কিন্তু বর্তমান বিনিয়োগ পরিবেশ, জ্বালানি সংকট ও অর্থনীতির নানা দুর্বলতার মধ্যে এক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ৬.৫৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩৪.৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরেই কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারছে না। বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, ব্যবসা পরিচালনার নানা বাধা, জ্বালানি সংকট, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগে বড় ধরনের উল্লম্ফনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন কৌশল ও কাঠামোতে সরকার চলতি অর্থবছরেই মোট বিনিয়োগকে মোট দেশজ উৎপাদনের ৩৪.৫ শতাংশে উন্নীত করার আকাঙ্ক্ষা জানিয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের মধ্যে বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে ৬.৫৭ শতাংশীয় পয়েন্ট।
অর্থনীতিবিদদের একটি অংশের মতে, লক্ষ্যটি উচ্চাভিলাষী তো বটেই, বর্তমান বাস্তবতায় প্রায় অসম্ভবও। কারণ বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য শুধু সরকারি পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন স্থিতিশীল অর্থনীতি, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, কার্যকর ব্যাংকিং ব্যবস্থা, সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো—জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১’ এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার প্রচ্ছদ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ প্রচলিত কঠোর আমলাতান্ত্রিক পরিকল্পনা কাঠামো থেকে সরে এসে এই নতুন অর্থনৈতিক নকশা তৈরি করেছে। এর লক্ষ্য অর্থনীতিকে দুর্বলতা থেকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়া।
এই কাঠামোতে বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, সরকারি বিনিয়োগসহ অর্থনীতির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যগুলোর একটি হলো বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত দ্রুত বাড়ানো।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে দেশের বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ছিল ২৮.৫৪ শতাংশ। ২০২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৭.৯৩ শতাংশে। অর্থাৎ এক অর্থবছরেই বিনিয়োগের অনুপাত ০.৬১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।
এই অবস্থান থেকে সরকার ২০২৭ অর্থবছরের মধ্যেই অনুপাতটি ৩৪.৫ শতাংশে নিতে চায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৬.৫৭ শতাংশীয় পয়েন্টের বড় উত্থান ঘটাতে হবে।
শুধু ২০২৭ অর্থবছরেই থেমে থাকছে না এই পরিকল্পনা। ২০২৮ অর্থবছরে বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ৩৫.৬ শতাংশ, ২০২৯ অর্থবছরে ৩৬.৮ শতাংশ এবং ২০৩০ অর্থবছরে ৩৭.৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২০৩১ অর্থবছরে অনুপাতটি ৪০ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বিনিয়োগ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।সরকারি বিনিয়োগেও বড় প্রত্যাশা।বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগেও বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলমান কৃচ্ছ্রসাধন এবং সরকারের সীমিত ব্যয় সক্ষমতার মধ্যেও চলতি অর্থবছরে সরকারি বিনিয়োগকে মোট দেশজ উৎপাদনের ৫.৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরে সরকারি বিনিয়োগের আনুমানিক হার ছিল ৪.৬ শতাংশ।অর্থাৎ মাত্র এক বছরের মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ এক শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এখানেই পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবতার আরেকটি বড় সংঘাত দেখা দিতে পারে। কারণ সরকারের রাজস্ব আহরণে চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ পুনর্গঠনের প্রয়োজন, ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট এবং সামগ্রিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণের নীতির মধ্যে বড় আকারের সরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সহজ নয়।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি, সরবরাহ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা কমানো হবে। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতির ঝুঁকিও কমবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নতুন কৌশলগত কাঠামোতে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রেও উচ্চ প্রত্যাশা রাখা হয়েছে।সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ৪.০ শতাংশে নেমে এসেছে। সরকার ২০২৭ অর্থবছরে সেটিকে ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করতে চায়।একই সময়ে ভোক্তা মূল্যসূচকভিত্তিক মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরবর্তী বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন দশকের শুরুতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮.৫ শতাংশে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করছে সরকার। পাশাপাশি ২০৩১ অর্থবছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৫.০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
পরিকল্পনাটি কাগজে উচ্চাকাঙ্ক্ষী। কিন্তু প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান একসঙ্গে বাড়াতে হবে। আর সেখানেই বর্তমান অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা—বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা।পরিকল্পনায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত নির্ভর করে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশের ওপর।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, অর্থায়নের উচ্চ ব্যয় এবং নীতির ধারাবাহিকতার অভাব বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে যোগ হয়েছে জ্বালানি সংকট। শিল্পকারখানার জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হবে।এ কারণেই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মুস্তাফিজুর রহমান লক্ষ্যমাত্রাটিকে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবায়ন কঠিন বলে মনে করছেন।
তার যুক্তি হলো, বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ ঐতিহাসিকভাবেই দুর্বল। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ফলে এক বছরের মধ্যে বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ৩৪.৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন।
নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজও একই ধরনের সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ এখনো যথেষ্ট উন্নত হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে নানা ধরনের পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ৩৪.৫ শতাংশে উন্নীত করা প্রায় অসম্ভব।
তার পরামর্শ, সরকারকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবসার পরিবেশ দ্রুত উন্নত করে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আস্থা। একজন উদ্যোক্তা তখনই বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেন, যখন তিনি মনে করেন আগামী কয়েক বছর ব্যবসার পরিবেশ স্থিতিশীল থাকবে।
অর্থনীতিতে যখন মূল্যস্ফীতি বেশি, ঋণের ব্যয় বেশি, জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত এবং ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট থাকে, তখন নতুন কারখানা বা ব্যবসায় বিনিয়োগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।এর পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা, মুনাফা দেশে নেওয়ার সুযোগ, করব্যবস্থার পূর্বানুমেয়তা, অবকাঠামো এবং দক্ষ শ্রমশক্তির বিষয়গুলো বিবেচনা করেন।
তাই ৩৪.৫ শতাংশের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে শুধু সরকারি ব্যয় বাড়ানো যথেষ্ট হবে না। বেসরকারি বিনিয়োগের গতি ফিরিয়ে আনাই হবে মূল পরীক্ষা।সরকারের নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন কৌশলে অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য তিনটি ধারাবাহিক পর্যায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথম দুই বছরকে ধরা হয়েছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পর্ব হিসেবে। এই সময়ে সামষ্টিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো স্থিতিশীল করা, মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো, ব্যাংক খাতের তীব্র তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং কমে যাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ দ্রুত পুনর্গঠনের ওপর জোর দেওয়া হবে।
এরপর তৃতীয় বছরে শুরু হবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রূপান্তর পর্ব। এ সময়ে ব্যাংক খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দ্রুত এগিয়ে নেওয়া, বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা আধুনিক করা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চতুর্থ ও পঞ্চম বছরকে রাখা হয়েছে পুনর্গঠন ও ত্বরান্বিত প্রবৃদ্ধি পর্ব হিসেবে। এই পর্যায়ে প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুত প্রবৃদ্ধি, চরম দারিদ্র্য কমানো এবং ব্যাপক বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য রয়েছে।নতুন কৌশলগত কাঠামোতে শিল্প খাতের অবদান নিয়েও উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ধাক্কা ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রবৃদ্ধিতে শিল্প খাতের অবদান ধারাবাহিকভাবে কমেছে। নতুন পরিকল্পনায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পর এই প্রবণতা উল্টে দেওয়ার প্রত্যাশা করা হয়েছে।পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, বেসরকারি বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মূলধনের অবদান নেতিবাচক পর্যায়ে চলে গেছে।
অর্থনীতি স্থিতিশীল হওয়ার পর প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে কর্মসংস্থান এবং উৎপাদনশীলতার ওপর আগের তুলনায় বেশি নির্ভর করার প্রত্যাশা করছে সরকার।অর্থাৎ শুধু অর্থ ঢেলে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর বদলে শ্রমশক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর দিকে জোর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের পাঁচ বছরের পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো অর্থনীতির দুর্বল জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করে একটি ধারাবাহিক কাঠামো তৈরির চেষ্টা। কিন্তু সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হতে পারে লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়নযোগ্যতা।২০২৬ অর্থবছরে যেখানে বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ২৭.৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে, সেখানে মাত্র এক বছরের মধ্যে সেটিকে ৩৪.৫ শতাংশে উন্নীত করতে হলে অভূতপূর্ব বিনিয়োগ প্রবাহ প্রয়োজন হবে।
একই সময়ে সরকারি বিনিয়োগ ৪.৬ শতাংশ থেকে ৫.৬ শতাংশে নেওয়া, প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ৪.০ শতাংশ থেকে ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও রয়েছে।এই সবগুলো লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করতে হলে অর্থনীতির একাধিক ক্ষেত্রে একই সময়ে দৃশ্যমান উন্নতি আনতে হবে।
ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল করতে হবে। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে হবে। নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের আস্থা ফেরাতে হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা তৈরি করতে হবে।অন্যথায় বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা কাগজে বড় হলেও বাস্তবে তা পূরণ করা কঠিন হবে।
বাংলাদেশের সামনে তাই এখন মূল প্রশ্ন শুধু ৩৪.৫ শতাংশে পৌঁছানো নয়। বরং প্রশ্ন হলো—এই বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ এক বছরের মধ্যে কতটা বদলানো সম্ভব?কারণ বিনিয়োগ আদেশ দিয়ে বাড়ানো যায় না। বিনিয়োগ আসে তখনই, যখন উদ্যোক্তা ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা পান।
সরকারের নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা সেই আস্থা তৈরির পরীক্ষায় সফল হতে পারলেই ৩৪.৫ শতাংশের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তব অর্থনীতিতে রূপ নিতে পারে। আর যদি ব্যবসায়িক পরিবেশ, জ্বালানি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও নীতিগত স্থিতিশীলতার পুরোনো সমস্যাগুলো থেকেই যায়, তাহলে এই লক্ষ্যমাত্রা শেষ পর্যন্ত একটি আকাঙ্ক্ষা হিসেবেই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

