ভারতের ব্যবসায়ীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ৩০ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে দুই দেশের পণ্য পরিবহন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বন্দরের শ্রমিকরা।
বন্দরসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় বুধবারও হিলি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্য শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীরা স্মারকলিপি দিয়ে হিলি বন্দরের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরবেন। বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করছেন তাঁরা।
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মন্ডল জানান, পশ্চিমবঙ্গের অন্য স্থলবন্দরগুলোর তুলনায় হিলি বন্দর ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও হস্তক্ষেপের কারণে ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে।
তাঁর ভাষ্য, এসব সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও প্রত্যাশিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বাধ্য হয়েই ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে।
বিকাশ মন্ডল বলেন, বালুরঘাটের বৈঠকে হিলি বন্দরের প্রশাসনিক সমস্যা ছাড়াও অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে সমস্যার সমাধান না হলে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। হিলি বন্দরের ব্যবসায়ী ওয়াহেদুর রহমান রিপন জানান, অনেক ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে ভারতে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলেছেন। পাশাপাশি বেশ কিছু পণ্যবাহী ট্রাক ভারতে আটকে রয়েছে। সময়মতো এসব পণ্য দেশে প্রবেশ করতে না পারায় ব্যবসায়ীদের লোকসান বাড়ছে।
তিনি দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে হিলি বন্দরের বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
বন্দর শ্রমিকদের ওপরও পড়েছে ধর্মঘটের সরাসরি প্রভাব। শ্রমিক গোলাপ হোসেন জানান, তিন দিন ধরে ভারত থেকে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে আসছে না। বাংলাদেশ থেকেও রপ্তানিপণ্য নিয়ে কোনো ট্রাক ভারতে যাচ্ছে না। ফলে বন্দরের শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, দিনমজুর হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা শ্রমিকদের জন্য এ পরিস্থিতি বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে।
তবে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও হিলি স্থল কাস্টমস স্টেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। রাজস্ব কর্মকর্তা পারভেজ জানান, নতুন করে পণ্য আমদানি-রপ্তানি না হলেও আগে আমদানি করা পণ্যের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সেগুলো খালাসের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বুধবারের বৈঠকের দিকেই এখন নজর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের। বৈঠকে সমস্যাগুলোর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলে দ্রুত হিলি বন্দরের বাণিজ্য কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

