মোবাইল ফোনের ব্যালান্স ব্যবহার করে স্মার্টফোন, রাউটারসহ বিভিন্ন নির্ধারিত পণ্য ও সেবা কেনার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। এখন এভাবে বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করা যাবে। আগের সীমা ছিল ২০ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের পর এই সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়ম ছয় মাসের জন্য কার্যকর থাকবে।
নতুন সীমার ফলে ব্যাংক হিসাব বা ক্রেডিট কার্ড নেই—এমন গ্রাহকেরাও মোবাইলের ব্যালান্স ব্যবহার করে স্মার্টফোনসহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন। সিম ব্যবহার করা যায় এমন বিভিন্ন যন্ত্র, রাউটার এবং অনুমোদিত ডিজিটাল পণ্য ও সেবাও এর আওতায় থাকবে।
এমনকি কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রেও এই সুবিধা কাজে লাগতে পারে। অর্থাৎ কিস্তির টাকা মোবাইলের ব্যালান্স থেকে পরিশোধ করার সুযোগ তৈরি হবে।
এখন পর্যন্ত নতুন সীমায় এই সুবিধা দেওয়ার অনুমোদন পেয়েছে শুধু গ্রামীণফোন। তবে অন্যান্য মোবাইল অপারেটরও চাইলে অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
গ্রামীণফোনের প্রধান করপোরেট বিষয়ক কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ বলেন, দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়াতে এই উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংকিং সুবিধা বা কার্ড নেই—এমন গ্রাহকেরা মোবাইলের ব্যালান্স দিয়েই স্মার্টফোন কেনার সুযোগ পাবেন।
মোবাইলের ব্যালান্স ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ও পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল কনটেন্ট, বিভিন্ন অ্যাপ ও অ্যাপের ভেতরের কেনাকাটা, অনলাইনে বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাসসহ বিভিন্ন বিল পরিশোধ, অনলাইনে টিকিট কেনা, অনলাইন স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি লটারি, বিভিন্ন অনলাইন সেবার সদস্যতা এবং শিক্ষা বিষয়ক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।
তবে মোবাইলের ব্যালান্সকে ইচ্ছামতো টাকা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। সব ধরনের আর্থিক লেনদেনে এই সুবিধা ব্যবহারের অনুমতি নেই।
ভার্চুয়াল মুদ্রা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন গেমে ব্যবহৃত কয়েন, পয়েন্ট, ক্রেডিট, কুপন, ডায়মন্ড ও জেমের মতো ভার্চুয়াল উপকরণ কেনা যাবে না।
এ ছাড়া যেসব অ্যাপ মানুষের কাছ থেকে বিনিয়োগ নেয়, ঋণ দেয়, টাকা জমা রাখে বা অন্য কোনো আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করে, সেসব ক্ষেত্রেও মোবাইলের ব্যালান্স ব্যবহার করা যাবে না।
জুয়া, ক্যাসিনো, লটারি, ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচা, বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন, শেয়ারবাজারে কেনাবেচা এবং মাল্টি-লেভেল মার্কেটিংয়ের মতো কার্যক্রমেও এই সুবিধা ব্যবহার নিষিদ্ধ।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনো সেবা নিতে গিয়ে বিদেশি মুদ্রায় টাকা পাঠানোর প্রয়োজন হলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
বাংলাদেশে মোবাইলের ব্যালান্স ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধের এই ব্যবস্থা চালু হয় ২০১৮ সালে। সে সময় মাসে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা এবং বছরে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করা যেত।
এরপর কয়েক ধাপে এই সীমা বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক মাসিক সীমা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা এবং বার্ষিক সীমা ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। এই সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল।
সর্বশেষ সিদ্ধান্তে বার্ষিক সীমা আরও বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাসিক খরচের সীমাও আগের তুলনায় ১৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
তবে গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় মোবাইল অপারেটরদের কিছু শর্ত মানতে হবে। মোবাইলের ব্যালান্স দিয়ে কেনা পণ্য বা সেবা গ্রাহকের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি টাকা ফেরত দেওয়ার নীতিও রাখতে হবে।
এই কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকির আওতায় থাকবে। অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী মোবাইল অপারেটরদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে।

