দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও চার চালান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব এলএনজি প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে (এমএমবিটিইউ) ২৩ দশমিক ৯৮ থেকে ২৮ দশমিক ০৩ মার্কিন ডলার দরে কেনা হবে।
বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চার চালান এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এসব এলএনজি কেনার প্রস্তাব কমিটির কাছে উপস্থাপন করে।
চার চালানের মধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক দরপ্রস্তাব আহ্বানের মাধ্যমে এবং একটি সৌদি আরামকোর বাণিজ্যিক শাখা থেকে সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থায় কেনা হবে।
আন্তর্জাতিক দরপ্রস্তাবের মাধ্যমে কেনার জন্য ৪৯তম এলএনজি চালানটি ২৫ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার দরে এই চালান কেনা হবে।
৫০তম চালানটি ১ থেকে ২ অক্টোবর সরবরাহ করবে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড। এর দাম পড়বে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ দশমিক ০৩ ডলার। আর ৫১তম চালানটি ৫ থেকে ৬ অক্টোবর দেশে আসার কথা রয়েছে। সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এই চালান প্রতি এমএমবিটিইউ ২৬ দশমিক ৬৬৮৮ ডলার দরে কেনা হবে।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি তিনটি চালান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত দরে কেনার অনুমোদন দিয়েছে।
এর বাইরে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে আরও একটি এলএনজি চালান কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ চালানের দাম পড়বে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩ দশমিক ৯৮ ডলার।
সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থার আওতায় আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর এবং পেট্রোবাংলার মধ্যে স্বাক্ষরিত স্বল্পমেয়াদি এলএনজি বিক্রয় ও ক্রয় চুক্তির একটি ধারার আওতায় এই অতিরিক্ত চালানটি কেনা হবে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর চালানটি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিদ্যমান চুক্তির আওতায় এটিকে অতিরিক্ত পরিমাণ হিসেবে কেনা হবে।
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। এই ঘাটতি সামাল দিয়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন চার চালান এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

