চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের কাছ থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের ঋণ নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামীকাল ৩ সেপ্টেম্বর সরকারের সঙ্গে ব্যাংকটির এ বিষয়ে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের তেল পরিশোধন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। এ উপলক্ষে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সুলাইমান আল জাসের বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন।
প্রকল্পের জন্য ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক মোট ১০০ কোটি ৪০ লাখ ডলারের অর্থায়ন দেবে। এর মধ্যে একটি ঋণ ব্যবস্থার আওতায় ৫২ কোটি ৫৯ লাখ ডলার এবং অন্যটির আওতায় ৪৮ কোটি ৩১ লাখ ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। এর সঙ্গে কারিগরি সহায়তা হিসেবে আরও ৬ লাখ ডলারের অনুদান থাকবে।
তবে ঋণটির অর্থায়ন ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি। মোট মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২০ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর থাকবে অবকাশকাল। এরপর ১৫ বছরে ছয় মাস পরপর কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
গত ৭ জুলাই অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঋণটির অনুমোদন দেওয়া হয়। শর্ত কঠোর হলেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ মনে করছে, ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণ প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ ও আধুনিকায়নের কাজ শেষ হলে সক্ষমতা আরও ৩০ লাখ টন বাড়বে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক মোট পরিশোধন সক্ষমতা দাঁড়াবে ৪৫ লাখ টনে।
সক্ষমতা তিন গুণ বাড়লে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের জন্য বিদেশের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ৫৭ কোটি টাকার কিছু বেশি। এর মধ্যে সরকার দেবে প্রায় ১৮ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা। আর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে প্রায় ১২ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।
এর আগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি প্রকল্পটি শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দিয়েছিল। তখন এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। পরবর্তী যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের পর প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা কমিয়ে ৩১ হাজার ৫৭ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

