বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের শিপিং কোম্পানি মিতসুই ওএসকে লাইনস (এমওএল)। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনবল উন্নয়নেও সহযোগিতা করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদিরের সঙ্গে বৈঠকে এমওএলের উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধিদল এ আগ্রহের কথা জানায়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে মিতসুই ওএসকে লাইনস বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।
মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির বলেন, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও জাহাজ নির্মাণ—দুটি খাতই বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, এই দুই খাতের উন্নয়ন শুধু দেশের শিল্প সক্ষমতা বাড়াবে না, পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল তৈরি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণকারী দেশ। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো—সবই এ খাতে বাংলাদেশের রয়েছে।
মুকতাদির জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩১টি পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ড চালু রয়েছে। আগামী বছরগুলোতে এই সংখ্যা তিন অঙ্কে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু পুরোনো জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যমান সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্যও একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ।
মন্ত্রীর মতে, জাহাজ নির্মাণে জাপানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, উন্নত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জাহাজ নির্মাণ খাতকে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী শিল্পভিত্তিতে রূপান্তর করতে পারে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সমুদ্রভিত্তিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল দেশ হিসেবে জাপানের জন্যও এ ধরনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের কাঁচামাল আমদানি, শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ও জাহাজ নির্মাণ খাত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
বৈঠকে এমওএলের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।
বৈঠকে শিল্পসচিব আবদুন নাসের খান, এমওএলের মহাব্যবস্থাপক কেনতারো উয়েদা, গ্লোবাল শিপ রিসাইক্লিং প্রকল্প ব্যবস্থাপক তাকাহা উয়েমাতসু, এমওএলের জ্যেষ্ঠ পরিচালক সেনজি তোকুমোতোসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

