শুধু করদাতার আয় অনুমান করেই আর কর ফাঁকির অভিযোগে জরিমানা করা যাবে না। এখন থেকে আয়, সম্পদ, দায় বা ব্যয় গোপন কিংবা ভুলভাবে দেখানোর মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে কর ফাঁকি হয়েছে—এমন গ্রহণযোগ্য দালিলিক প্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পাশাপাশি জরিমানা আরোপের আগে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে শুনানির সুযোগ দেওয়াও এখন থেকে বাধ্যতামূলক।
আয়কর আইন, ২০২৩-এর একটি নির্দিষ্ট ধারার প্রয়োগ নিয়ে এই নির্দেশনা দিয়ে বুধবার একটি আদেশ জারি করেছে এনবিআর, যাতে সই করেছেন সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
আদেশে বলা হয়েছে, আয়কর আইনে উল্লিখিত যেকোনো ধরনের জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে শুনানিতে ডাকা বা অন্তত শুনানির যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দেওয়া আবশ্যক। কোনো করদাতা তাঁর আয়, সম্পদ, দায় বা ব্যয় গোপন করলে কিংবা ভুলভাবে দেখালে জরিমানা আরোপ করা যাবে, তবে সেক্ষেত্রেও নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, জরিমানা আরোপের আগে সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনারকে প্রথমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে জরিমানা আরোপযোগ্য কি না। জরিমানার প্রযোজ্যতা থাকলে তবেই একই আদেশে তা আরোপ করা যাবে; প্রযোজ্যতা না থাকলে কোনো জরিমানাই করা যাবে না।
আদেশে চাকরি, বাড়ি বা সম্পত্তি ভাড়া, কৃষি, ব্যবসা বা পেশা, মূলধনী আয়, আর্থিক পরিসম্পদ এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয়—প্রতিটি খাতের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কোনো খাতের আয় গোপন বা ভুলভাবে দেখানোর মাধ্যমে কর ফাঁকি হলে জরিমানা আরোপ করা যাবে। তবে করদাতা যদি ভুলবশত কোনো করযোগ্য আয়কে করমুক্ত হিসেবে দেখান, কোনো আইনি বিধান পালনে ব্যর্থ হন, বা আইনি ব্যাখ্যার পরিবর্তনে কোনো করমুক্ত আয় পরবর্তীতে করযোগ্য বিবেচিত হয়—শুধু এসব কারণে জরিমানা আরোপ করা যাবে না।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ভাড়া, কৃষি, ব্যবসা-পেশা, মূলধনী আয় এবং আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয়ের ক্ষেত্রে জরিমানা আরোপ করতে হলে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য দালিলিক প্রমাণ লাগবে—শুধু কর কর্তৃপক্ষের অনুমানের ভিত্তিতে নয়। যেমন, কোনো সম্পত্তির ভাড়ামূল্য যৌক্তিকভাবে অনুমান করাও একা জরিমানা আরোপের ভিত্তি হতে পারবে না।
‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়ের’ ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে বলে আদেশে জানানো হয়েছে—প্রমাণ ছাড়া শুধু আয় অনুমান করে কাউকে জরিমানা করা যাবে না। এ ছাড়া আয়কর আইনের একটি নির্দিষ্ট উপধারার প্রয়োগ ছাড়া অন্য কোনোভাবে ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’ তৈরি হলে সেই আয়ের ওপর জরিমানা আরোপের সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নতুন নির্দেশনার ফলে কর ফাঁকির অভিযোগে জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে কর কর্মকর্তাদের এখন থেকে দালিলিক প্রমাণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি করদাতার বক্তব্য শোনার সুযোগ নিশ্চিত হওয়ায় কর প্রশাসনে জবাবদিহি ও ন্যায্য প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

