চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬১ শতাংশ বেশি। এ পরিমাণ আমদানির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজির সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের তালিকায় বাংলাদেশ ১৭তম অবস্থানে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করেছিল। এক বছরের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ঘনফুট।
চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজির সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল মিসর। দেশটি ৩১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ঘনফুট আমদানি করেছে। এরপর রয়েছে নেদারল্যান্ডস, ইতালি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। শীর্ষ ২০ আমদানিকারকের তালিকায় ভারতের অবস্থান দশম হলেও পাকিস্তান এ তালিকায় জায়গা পায়নি।
এদিকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক গড় এলএনজি রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ঘনফুট। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ রপ্তানি ২৩ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয়ার্ধে দৈনিক গড় রপ্তানি ১৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন। ২০২৭ সালের প্রথম ছয় মাসে তা আরও বেড়ে ১৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে।
বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহের বড় অংশ এখনও মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। বিশেষ করে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে এলএনজি এবং জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে বাংলাদেশ। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় প্রচলিত সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বেড়েছে।
এর মধ্যে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালিতে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিবার্য পরিস্থিতিজনিত ছাড়ের মেয়াদ বাড়িয়েছে। ফলে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের সংকট সেপ্টেম্বরের পরও অব্যাহত থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কাতারএনার্জি গত ৪ মার্চ এলএনজি সরবরাহ কার্যক্রম স্থগিত করে অনিবার্য পরিস্থিতির ঘোষণা দেয়। এর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।
সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের গ্যাস ব্যবস্থাপনাতেও। দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদনও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বিকল্প উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি আমদানি বাড়ানোর প্রবণতা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

