চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে পড়েছিল চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। আমদানি-রপ্তানির গতি কিছুটা কম থাকায় রাজস্ব কমে গিয়েছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। কিন্তু আগস্ট মাসে পরিস্থিতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত আগস্টে চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায় দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯২ কোটি টাকায়। গত বছরের একই সময়ে ছিল ৫ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব বেড়েছে ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকা, যা প্রবৃদ্ধির হিসেবে ২৯ দশমিক ২০ শতাংশ।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেছেন, ‘আগস্টে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। আমরা এই ধারা বজায় রাখতে কাস্টমস কার্যক্রম আরও গতিশীল করার চেষ্টা করছি’। তার ভাষ্য, ‘রাজস্ব আদায় মূলত আমদানি কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে। যদি আমদানি স্বাভাবিক থাকে এবং বর্তমান প্রবৃদ্ধি ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সুযোগ আছে’।
আগস্টের এই উত্থান জুলাইয়ের পতনকে পুরোপুরি কাভার করে দিয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) মোট রাজস্ব আদায় দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকায়। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১২ হাজার ৯১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ, দুই মাসের ব্যবধানে রাজস্ব বেড়েছে ১ হাজার ৯৯ কোটি ৩ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।
তবে সম্পূর্ণ চিত্র কিন্তু এখনও উদ্বেগজনক। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টের জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার ৫৩০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। তার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ১৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি ৭ হাজার ৫১২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করতে হলে আগামী মাসগুলোতে আরও শক্তিশালী রাজস্ব আদায় প্রয়োজন।
শুধু চলতি অর্থবছরের দুই মাস নয়, গত পুরো অর্থবছরের দিকেও তাকাতে হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস মোট রাজস্ব আদায় করেছে ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি। কিন্তু বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি ছিল ২০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। আর চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালিত হয়। তাই এই বন্দরের আমদানি কার্যক্রমের গতিই নির্ধারণ করে কাস্টমসের রাজস্ব আদায়। আগস্ট মাসে বন্দর কার্যক্রম ও আমদানি-রপ্তানি গতি পাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। আগস্টের এই প্রবৃদ্ধি কিছুটা স্বস্তি দিলেও ৭ হাজার ৫১২ কোটি টাকার ঘাটতি পূরণ করতে আগামী মাসগুলোতে আরও বেশি রাজস্ব আদায়ের প্রয়োজন। আর সেটা সম্ভব হবে কিনা, তা নির্ভর করবে আমদানি-রপ্তানির ধারাবাহিক গতি ও বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির ওপর।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের এই চিত্র শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাব নয়; এটা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের এক আয়না। আমদানি বাড়লে রাজস্ব বাড়ে, আর রাজস্ব বাড়লে সরকারের হাতে উন্নয়ন বাজেটের সুযোগ বাড়ে। তাই আগস্টের এই ইতিবাচক সংকেত যেমন আশার, তেমনি লক্ষ্যমাত্রার বিশাল ব্যবধান উদ্বেগেরও। সময় বলে দেবে, আগামী মাসগুলোয় এই ধারা ধরে রাখতে পারে কাস্টমস।

