দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা মজবুত করতে এবং পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বড় পরিসরে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে দেশের প্রধান তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিকে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বার্ষিক তেল শোধন ক্ষমতা বর্তমান পনেরো লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে দাঁড়াবে পঁয়তাল্লিশ লাখ মেট্রিক টনে, অর্থাৎ সক্ষমতা বাড়বে তিন গুণ।
এই বিশাল প্রকল্পের জন্য প্রায় একশ চার কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় বারো হাজার কোটি টাকা। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সরকার ও সংস্থাটির মধ্যে এই সংক্রান্ত একটি অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংস্থাটির পক্ষে দেশভিত্তিক কর্মসূচির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা স্বাক্ষর করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্যমতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। এই অর্থায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও সংস্থাটির মধ্যকার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশে কোনো একক প্রকল্পে এটিই সংস্থাটির সর্বোচ্চ বিনিয়োগ বলে জানিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে বলে প্রত্যাশা সরকারের। একই সঙ্গে তৈরি হবে পরিবেশবান্ধব ইউরো-৫ মানের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সুযোগ, যা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী কম দূষণকারী জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত হয়।
রিফাইনারির সক্ষমতা তিন গুণ বাড়ানোর ফলে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি সাশ্রয় হবে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাও। এতে সামগ্রিকভাবে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি অনুদান, প্রকল্প ঋণ, বাণিজ্য অর্থায়ন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ এবং রপ্তানি ঋণ গ্যারান্টিসহ নানা ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশকে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর সংস্থাটির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী সহজ শর্তে অর্থায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং দুই পক্ষের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেন।

