দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা অর্ধেক কমিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ২৭৮টি অনুমোদিত রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য আগে নির্ধারিত সুগন্ধি চালের রপ্তানি পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত কোটা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে এবং এ অনুমোদনের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ছোট রপ্তানিকারক—কোনো প্রতিষ্ঠানই আগে অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবে না।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রপ্তানিকারকদের রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এর সব বিধান মেনে চলতে হবে। প্রতিটি চালানের আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও প্রকৃততা যাচাই করবে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে নতুন করে রপ্তানির অনুমোদন চাইলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃতপক্ষে কত চাল রপ্তানি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানির সুযোগ থাকবে না।
আন্তর্জাতিক বাজারে সুগন্ধি চালের মূল্য ধরে রাখতে প্রতি কেজির ন্যূনতম এফওবি (ফ্রি অন বোর্ড) রপ্তানি মূল্য ১.৬০ ডলার নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মাত্র ২ হাজার ৪১৯ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি কেজি চালের দাম ১৩০-১৫০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৫০-২৬০ টাকায় উঠেছে।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও বাজারমূল্যের স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। এ বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি রপ্তানিতে আরও কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
তার মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সুগন্ধি চাল রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হবে এবং রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।
তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য সুগন্ধি চালের রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়। বরং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসই উপায়ে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা।

