নির্দিষ্ট কাউন্টের কটন সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা তুলে নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। তবে একেবারে সুযোগ বন্ধ না করে ব্যাংক গ্যারান্টির শর্তে আমদানির পথ খোলা রেখেছে সংস্থাটি।
সোমবার এনবিআরের দ্বিতীয় সচিবের সইয়ে জারি করা একটি আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফের নির্দিষ্ট তিনটি এইচএস কোডের আওতায় পড়া দশ থেকে ত্রিশ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে আগে যে বড় ছাড় দেওয়া হতো, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। টেক্সটাইল খাতের সমস্যা নিয়ে গঠিত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
কেন এই পদক্ষেপ, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে এনবিআর। তাদের ভাষ্য, দেশের ভেতরে গড়ে ওঠা স্পিনিং শিল্পের স্বার্থ রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে প্রকৃত রপ্তানিকারকরা যাতে সহজে কাঁচামাল পান, সেই দুই লক্ষ্য মাথায় রেখেই এই ভারসাম্যমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় সুতা আমদানি করতে হলে ব্যবসায়ীদের কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনগুলোর প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনে জমা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমদানি পর্যায়ে যে পরিমাণ শুল্ক-কর প্রযোজ্য হবে, তার সমপরিমাণ অর্থের একটি চলমান বা অব্যাহত ব্যাংক গ্যারান্টিও জমা রাখতে হবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে।
এই গ্যারান্টি চিরস্থায়ীভাবে আটকে থাকবে না। আমদানি করা সুতা দিয়ে তৈরি পণ্য যখন সম্পূর্ণভাবে রপ্তানি হয়ে যাবে, তখন সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের সনদ দেখিয়ে ওই ব্যাংক গ্যারান্টি ফেরত পাওয়া যাবে।
আইনি দিক থেকে দেখলে, কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর একটি নির্দিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে এই আদেশ জারি করা হয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আদেশ জারির আগেই যেসব পণ্য আমদানি হয়ে গেছে বা যেসব কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, নতুন এই নিয়ম তাদের ক্ষেত্রে প্রযোগ হবে না।
এই সিদ্ধান্তের একটি পটভূমিও আছে। এ বছরের জানুয়ারিতে সরকার একবার রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত দশ থেকে ত্রিশ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহার করেছিল। এর পেছনে যুক্তি ছিল—দেশীয় স্পিনিং শিল্পকে টিকিয়ে রাখা, রপ্তানি খাতে মূল্য সংযোজনের হার বাড়ানো এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর যেসব চ্যালেঞ্জ আসবে, তা মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া।
তবে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি পোশাক খাতের দুই প্রধান সংগঠন—পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন এবং নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন। তারা তখন থেকেই ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল। এই প্রেক্ষাপটেই এবার নতুন শর্তসাপেক্ষ ব্যবস্থা চালু করল এনবিআর, যা দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে একটি মধ্যপন্থা খোঁজার চেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে।

