চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে ২০৩ কোটি ডলার স্বল্পসুদের ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিশ্বব্যাংক। অর্থবছর ২০২৭ সালে আইডিএর অর্থছাড়ের হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে বাংলাদেশবিষয়ক বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে অর্থমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে অর্থছাড়ের লক্ষ্যের কথা জানান।
চিঠিতে তিনি বলেন, অর্থবছর ২০২৭ সালে আইডিএর মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য মোট ২০৩ কোটি ডলার অর্থছাড়ের লক্ষ্য রয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য আইডিএর সম্ভাব্য অর্থায়নের পাইপলাইনে রয়েছে প্রায় ২৬১ কোটি ডলার।
আইডিএ বিশ্বব্যাংকের স্বল্প আয়ের দেশগুলোর জন্য কম সুদে ঋণ ও অনুদান দেওয়ার সংস্থা। এসব ঋণের সুদহার খুবই কম, অনেক ক্ষেত্রে প্রায় নেই বললেই চলে। দেশের আয়, অর্থনীতি পরিচালনায় সাফল্য এবং চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতার ভিত্তিতে আইডিএর অর্থ বরাদ্দ করা হয়।
বিশ্বব্যাংকের আইডিএ তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহীতা দেশ।
অর্থবছর ২০২৭ সালের সম্ভাব্য অর্থায়ন পরিকল্পনায় শিক্ষা, নগর উন্নয়ন, পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাত রয়েছে।
এর মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষার গতি বাড়ানোর প্রকল্পে প্রায় ৫ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়নে ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং চট্টগ্রামের পানি সরবরাহ উন্নয়নে ১৪ কোটি ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার গতি বাড়ানোর প্রকল্পে ৩০ কোটি ডলার এবং ‘বাংলাদেশ ওয়ান হেলথ’ প্রকল্পে ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা গণপরিবহন উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্পে ৭ কোটি ডলার, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে ১৪ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং কৌশলগত বন্যা সহনশীলতা কর্মসূচিতে ৪০ কোটি ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
উপকূলীয় স্থিতিস্থাপকতা প্রকল্পে ২৩ কোটি ডলার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কর্মসূচিতে ৩৫ কোটি ডলার দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কার কর্মসূচিতে ২৫ কোটি ডলার এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ এগ্রিকানেক্ট’ প্রকল্পে ৩৫ কোটি ডলার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, অর্থবছর ২০২৭-২৮ সালের প্রস্তাবিত কর্মসূচির আকার বাংলাদেশের নির্ধারিত আইডিএ বরাদ্দের তুলনায় বেশি হতে পারে। এ কারণে অতিরিক্ত অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানো এবং যেসব প্রকল্পের অগ্রগতি কম, সেসব প্রকল্প থেকে অর্থ অন্য প্রকল্পে স্থানান্তরের মতো ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।
বিশ্বব্যাংক প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে অর্থবছর ২০২৭ সালের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলোর অনুমোদন দ্রুত হলে নির্ধারিত সময়ে অর্থছাড় করা সহজ হবে।
অর্থ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, আইডিএর অর্থ আসে সদস্য দেশগুলোর সহায়তা থেকে। তাই বিশ্বব্যাংক এই অর্থের সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকল্প অনুমোদনে দেরি না করার বিষয়েও তারা জোর দিয়েছে।
তার মতে, বিশ্বব্যাংকের স্বল্পসুদের ঋণ ও অনুদান বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত এবং দারিদ্র্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এ পর্যন্ত আইডিএ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছর ২০২৬ সালে আইডিএ থেকে বাংলাদেশ পেয়েছে ১২৭ কোটি ডলার। এর আগের অর্থবছর ২০২৫ সালে পেয়েছিল ২০১ কোটি ডলার।

