ঢাকার দুইটি মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় পুনর্গঠনের পরও ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কামালাপুর) ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সম্মিলিত ব্যয় ৯ হাজার ৭৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪ হাজার ২৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ ২০১৯ সালে প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার সময় মূল প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল মাত্র ৯৩ হাজার ৭৯৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা, যা মূল প্রাক্কলনের চেয়ে ১১৭ শতাংশেরও বেশি। গত ৩০ আগস্ট প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনর্গঠিত ডিপিপি তৈরি করে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রথমে আগস্টের শুরুতে ব্যয় বাড়িয়ে মোট ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেয়। পরে পিইসি সভার সুপারিশে তা কমানো হয়। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে নকশা ও দরপত্র দলিল চূড়ান্ত করতে বিলম্ব, জাপানি ঠিকাদারদের সীমিত প্রতিযোগিতার কারণে উচ্চ দরপত্র জমা এবং নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি, এসব কারণেই ব্যয় লাফিয়ে বেড়েছে।
এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় মূল প্রাক্কলনের চেয়ে ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পটি দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে সরকারি তহবিলের বরাদ্দ ১৩৩ শতাংশ বেড়ে ৩০ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা এবং জাইকার ঋণের অংশ ১১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৮৩ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে স্টেশনের আকার পরিবর্তন, যেমন নতুনবাজার স্টেশন ৬৭০ মিটার, কমলাপুর ৪২০ মিটার, বিমানবন্দর ৩৮০ মিটার এবং নর্থ বাড্ডা ২৭১ মিটার করা হয়েছে। এছাড়া রাজারবাগ স্টেশন দুইতলার পরিবর্তে তিনতলা করার প্রস্তাব এবং প্রায় ২০ কিলোমিটার বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও যুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পের ব্যয় মূল প্রাক্কলনের চেয়ে ১১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়ে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটটি সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত নির্মিত হবে। এই প্রকল্পেও সরকারি তহবিল ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা এবং জাইকার ঋণ ১৩১ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য ছিল ২০২৮ সালের মধ্যে এই রুট চালু করা, তবে নতুন প্রস্তাবে বাস্তবায়ন ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই দুই মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সরকার ও জাইকা উভয়েই প্রকল্প দুটি দ্রুত এগিয়ে নিতে চাইছে। জাইকা ইতিমধ্যেই প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন দ্রুত করার জন্য সরকারকে চিঠি দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পুনর্গঠিত ডিপিপি অনুমোদন পায় কত দ্রুত এবং প্রকল্প দুটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয় কিনা।

